জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট এনসিপি নেতাদের
জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা। ডকুমেন্টারিতে জুলাই আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস ও মূল দাবিগুলো অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সেখানে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।
আজ বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এই সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদর্শিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টারিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হয়নি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার, ৯ দফা ও ঐতিহাসিক ১ দফা ঘোষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সুপরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের পর পরই অনুষ্ঠানে উপস্থিত আহত জুলাইযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের একাংশ ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান, যার ফলে পুরো মিলনায়তনে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মঞ্চ থেকে বারবার শান্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। বক্তব্য শেষ করার পরপরই দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও মুনিরা শারমিনসহ এনসিপির অন্যান্য শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠান বর্জন করে সভাস্থল ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ভিডিও ডকুমেন্টারিতে সুনির্দিষ্টভাবে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। সেখানে জুলাই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার, ৯ দফা এবং ১ দফা ঘোষণার মতো ঐতিহাসিক অর্জনগুলোকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী চলমান বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার তীব্র প্রতিবাদস্বরূপ তারা এই অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন।