রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের পূর্ণ ক্ষমতা তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করল বিএনপি স্থায়ী কমিটি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (১ আগস্ট) রাত আটটায় রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে মূলত আসন্ন রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী মনোনয়ন এবং নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের চূড়ান্ত দায়িত্ব সর্বসম্মতভাবে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ অধিবেশনের প্রয়োজন দেখা দিলে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উক্ত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এর আগে গত ২৬ জুলাই বগুড়ায় এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল জানিয়েছিলেন যে, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি নির্দলীয় কাউকে প্রার্থী করা হবে, সে বিষয়ে সংবিধান অনুযায়ী স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো নাম এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে দলটির হাইকমান্ডের। এদিকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম ঘুরেফিরে আলোচনায় এলেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এগিয়ে রাখছেন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা এবং যেকোনো রাজনৈতিক সংকটে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পাশাপাশি দলীয় গণ্ডির বাইরেও তাঁর বাড়তি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদটি কেবল আনুষ্ঠানিক বা আলংকারিক কোনো বিষয় নয়; বরং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং যেকোনো জাতীয় সংকটে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এই পদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী ভূমিকা রয়েছে। এই কারণেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে চায়।