বাগমারায় দলিল লেখক সমিতির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়, বিক্ষোভ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জে দলিল লেখক সমিতির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে দাতা-গ্রহীতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সমিতির কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, মঙ্গলবার জমি রেজিস্ট্রি করতে ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির কার্যালয়ে যান জমির দাতা শাহনাজ বেগম ও গ্রহীতা ময়েন উদ্দিন। দলিল লেখা শেষে রেজিস্ট্রির খরচ জানতে চাইলে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। জমির পরিমাণ ছিল মাত্র ২ দশমিক ৪৮ শতক। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দলিল লেখক ও গ্রহীতার মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে গ্রহীতার স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে সমিতির নামে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ জানান। পরে অন্যান্য জমির ক্রেতা-গ্রহীতারাও এতে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সমিতির নাম ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
তাদের দাবি, জমির পরিমাণ বা মূল্য যাই হোক না কেন, রেজিস্ট্রির সময় অতিরিক্ত ‘গলাকাটা’ চার্জ দিতে বাধ্য করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারকে জানানো হলে সাময়িকভাবে রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতিতে কোনো নির্বাচিত কমিটি নেই। অভিযোগ রয়েছে, হানিফ, শামসুল, সানাউল ইসলাম, মামুনুর রশিদ ও নাজমুল ইসলামসহ কয়েকজন মিলে একটি অনানুষ্ঠানিক কমিটি গঠন করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ আদায় করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত একটি কমিটি সমিতি পরিচালনা করলেও সরকার পরিবর্তনের পর তারা আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে বিএনপি-সমর্থিত কয়েকজন দলিল লেখক নির্বাচন ছাড়াই নতুন একটি কমিটি গঠন করেন। এরপর থেকেই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা বেড়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
জমির গ্রহীতা ময়েন উদ্দিন বলেন, “সরকারি ফি’র বাইরে কোনো অর্থ দেওয়ার কথা নয়। অথচ সমিতির নামে দ্বিগুণ টাকা আদায় করা হচ্ছে।”
অন্য ভুক্তভোগীরাও জানান, সমিতির উন্নয়নের নামে সামান্য অর্থ নেওয়া হলে আপত্তি থাকত না, কিন্তু জোরপূর্বক বড় অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সমিতির বর্তমান দায়িত্বে থাকা শামসুল ইসলাম বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে এখানে কোনো বৈধ সমিতি নেই। যে যার মতো করে ৪ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে।”
উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম বলেন, “অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। এখানে মূলত কোনো কার্যকর সমিতিও নেই।”
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।