রাজশাহীতে শিক্ষিকাকে পেটানো বিএনপি নেতা বহিষ্কার
রাজশাহীর দূর্গাপুরের দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ঢুকে প্রথমে শিক্ষিকাকে জোতাপেটা করা এবং পরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও শিক্ষকদের পেটারোর অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দূর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে নেতাকর্মীদের নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের মারপিট ও ভাঙচুর চালান জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী। এ সময় তিনি এক শিক্ষিকার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও মারপিট করেন। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট অভিযোগে আকবর আলীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষা চলাকালে হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষক মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ, নারী শিক্ষকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। ‘চাঁদা না পেয়ে’ এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ কলেজ কর্তপক্ষের।
কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে, যখন ২০২৪ সালের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় কলেজ ও আশপাশের ১০০ গজ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং সকাল থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলেন, দুপুরের দিকে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে গিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। বিশেষ করে আগের অধ্যক্ষের সময়ে কলেজের আয়-ব্যায়ের হিসাব চান তারা। এ নিয়ে তাদের মধ্য কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে মারধর করেন।
এর জের ধরে ক্যাম্পাসে ওই নারী শিক্ষক বিএনপি নেতা আকবর আলীর উপর হামলা করে। এর কিছুক্ষণ পর বিএনপির নেতাকর্মীরা গিয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন শিক্ষকের ওপর হামলা চালান। এ সময় অফিস কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুরও করা হয়।
হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও দুই কর্মচারী। তাদের কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার সময় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।