শুক্রবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৬
হোমরাজশাহীরাতের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে পুকুর খননকারীদের: ফসলি জমি রক্ষায় জিরো টলারেন্স

রাতের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে পুকুর খননকারীদের: ফসলি জমি রক্ষায় জিরো টলারেন্স

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:-
রাতের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে পুকুর খননকারীদের: ফসলি জমি রক্ষায় জিরো টলারেন্স

রাজশাহীর বাগমারায় ফসলি জমির উর্বর ‘টপসয়েল’ রক্ষা এবং অবৈধভাবে পুকুর খনন বন্ধে রণকৌশল পরিবর্তন করেছে উপজেলা প্রশাসন। এখন থেকে কেবল দিনের আলোতেই নয়, মাটিখেকোদের দৌরাত্ম্য থামাতে গভীর রাতেও পরিচালিত হবে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে অবৈধ খননকারীদের রাতের ঘুম রীতিমতো হারাম হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সাঁড়াশি অভিযান: অকেজো হলো ভেকু মেশিন বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই বিশেষ অভিযানের নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সাইফুল ইসলাম ভূঞা।

অভিযানের শুরুতেই বিকেল ৫টার দিকে নরদাশ ইউনিয়নের ভেদুর মোড় এলাকায় হানা দেয় প্রশাসন। সেখানে দেখা যায়, কৃষি জমির উপরিভাগের মূল্যবান অংশ (টপসয়েল) কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর তৈরির পাঁয়তারা চলছিল। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দিলেও পার পায়নি তাদের যন্ত্রপাতি। জব্দ করার ঝক্কি এড়াতে এবং পুনরাবৃত্তি রোধে অবৈধ পুকুর খননের কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু (এস্কেভেটর) মেশিন ঘটনাস্থলেই অকেজো করে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায় গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া মোড় এলাকায়। উল্লেখ্য, এই স্থানে এর আগেও অভিযান চালিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পুনরায় সেখানে মাটি কাটার মহোৎসব শুরু হয়েছিল। আজ ফের প্রশাসনের অভিযান শুরু হলে মাটি খেকোরা দ্রুত গা ঢাকা দেয়।

অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা গণমাধ্যমকে জানান, কৃষি জমির উর্বরতা যারা নষ্ট করছে এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পুকুর খনন করছে, তাদের সাথে কোনো আপস নেই। তিনি বলেন: ফসলি জমি আমাদের দেশের সম্পদ। যারা ব্যক্তিস্বার্থে এই জমির শ্রেণি পরিবর্তন করছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এখন থেকে পুলিশ ও র‍্যাবের সহায়তায় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা আমাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাগমারা অঞ্চলে কৃষি জমির ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশের বিপর্যয় ঠেকাতে এই ধরনের কঠোর অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, রাতের অন্ধকারে যারা আইন ভেঙে কৃষি জমি ধ্বংস করছিল, প্রশাসনের এই 'নাইট অপারেশন' তাদের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা।

রাতের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে পুকুর খননকারীদের: ফসলি জমি রক্ষায় জিরো টলারেন্স
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৪ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৬
হোমরাজশাহীরাতের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে পুকুর খননকারীদের: ফসলি জমি রক্ষায় জিরো টলারেন্স

রাতের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে পুকুর খননকারীদের: ফসলি জমি রক্ষায় জিরো টলারেন্স

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:-
রাতের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে পুকুর খননকারীদের: ফসলি জমি রক্ষায় জিরো টলারেন্স

রাজশাহীর বাগমারায় ফসলি জমির উর্বর ‘টপসয়েল’ রক্ষা এবং অবৈধভাবে পুকুর খনন বন্ধে রণকৌশল পরিবর্তন করেছে উপজেলা প্রশাসন। এখন থেকে কেবল দিনের আলোতেই নয়, মাটিখেকোদের দৌরাত্ম্য থামাতে গভীর রাতেও পরিচালিত হবে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে অবৈধ খননকারীদের রাতের ঘুম রীতিমতো হারাম হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সাঁড়াশি অভিযান: অকেজো হলো ভেকু মেশিন বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই বিশেষ অভিযানের নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সাইফুল ইসলাম ভূঞা।

অভিযানের শুরুতেই বিকেল ৫টার দিকে নরদাশ ইউনিয়নের ভেদুর মোড় এলাকায় হানা দেয় প্রশাসন। সেখানে দেখা যায়, কৃষি জমির উপরিভাগের মূল্যবান অংশ (টপসয়েল) কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর তৈরির পাঁয়তারা চলছিল। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দিলেও পার পায়নি তাদের যন্ত্রপাতি। জব্দ করার ঝক্কি এড়াতে এবং পুনরাবৃত্তি রোধে অবৈধ পুকুর খননের কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু (এস্কেভেটর) মেশিন ঘটনাস্থলেই অকেজো করে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায় গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া মোড় এলাকায়। উল্লেখ্য, এই স্থানে এর আগেও অভিযান চালিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পুনরায় সেখানে মাটি কাটার মহোৎসব শুরু হয়েছিল। আজ ফের প্রশাসনের অভিযান শুরু হলে মাটি খেকোরা দ্রুত গা ঢাকা দেয়।

অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা গণমাধ্যমকে জানান, কৃষি জমির উর্বরতা যারা নষ্ট করছে এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পুকুর খনন করছে, তাদের সাথে কোনো আপস নেই। তিনি বলেন: ফসলি জমি আমাদের দেশের সম্পদ। যারা ব্যক্তিস্বার্থে এই জমির শ্রেণি পরিবর্তন করছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এখন থেকে পুলিশ ও র‍্যাবের সহায়তায় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা আমাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাগমারা অঞ্চলে কৃষি জমির ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশের বিপর্যয় ঠেকাতে এই ধরনের কঠোর অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, রাতের অন্ধকারে যারা আইন ভেঙে কৃষি জমি ধ্বংস করছিল, প্রশাসনের এই 'নাইট অপারেশন' তাদের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা।

রাতের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে পুকুর খননকারীদের: ফসলি জমি রক্ষায় জিরো টলারেন্স
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৪ এপ্রিল ২০২৬