রাজশাহীর তানোরে ভুয়া কাজীর রমরমা বাণিজ্য
রাজশাহীর তানোরে সরকারি নিবন্ধন ছাড়াই ‘কাজী’ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ দুই দশক ধরে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের নামে অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে গোলাম রাব্বানী ধলু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার কলমা ইউনিয়নের রামনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এই প্রতারণা বন্ধে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত ১৩ এপ্রিল রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই ইউনিয়নের সরকারি রেজিষ্ট্রেশন কৃত নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার (কাজী) মো. আহসান হাবিব।
তবে অভিযোগের ৯ দিন পার হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাম রাব্বানী ধুলু ২০০২ সাল থেকে একজন ঔষধ বিক্রেতা। নিজের ফার্মেসি ঔষধ বিক্রয়ের আড়ালে ভুয়া বালাম বই ব্যবহার করে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন করে আসছেন।
সম্প্রতি ৩ এপ্রিল এক নারীর তালাক নোটিশ জারি করে তিনি তিন হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া গত বছরের সেপ্টেম্বরে এক দম্পতির ভুয়া নিকাহনামা প্রদানের তথ্যও পাওয়া গেছে। প্রতিটি নিবন্ধনের জন্য তিনি তিন থেকে চার হাজার টাকা আদায় করেন বলে জানিয়েছেন ১ ভুক্তভোগী।
এই বিষয়ে কলমা ইউনিয়নের বৈধ কাজী আহসান হাবিব বলেন, ‘গোলাম রাব্বানী ধুলু কোনো লাইসেন্স ছাড়াই বছরের পর বছর সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে আসছেন গোলাম রাব্বানী । তাঁর দেওয়া কাগজপত্রের কোনো আইনি বৈধতা নেই, যা ভবিষ্যতে ভুক্তভোগীদের বড় ধরনের আইনি জটিলতায় ফেলতে পারে।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত গোলাম রাব্বানী ধুলু দাবি করেন যে তিনি ২০০২ সালে আইন মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ পেয়েছেন। তবে একই ইউনিয়নে দুজন কাজী থাকার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
রাজশাহী জজ কোর্টের আইনজীবী মনোয়ার হোসেন বাবু বলেন, ‘মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন-১৯৭৪ অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া কেউ কাজীর পরিচয় দিয়ে নিবন্ধন করলে সেটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়ই হতে পারে বলে জানান তিনি।
তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, এমন কোন অভিযোগ আমার নজের আসেনি, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।