নওগাঁয় একই পরিবারের শিশু সহ ৪জন খুন, আটক-১
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে ও মাথায় আঘাত করে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহত গৃহকর্তার ভাগনে সবুজ হোসেনকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাহাদুরপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক সবুজ হোসেন নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগনে এবং মান্দা উপজেলার পারনপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতের কোনো এক সময় বাড়ির ভেতরেই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকলে তাদের মৃতদেহ দেখতে পায়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
নিহতরা হলেন, বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), হাবিবুরের স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) ও ৩ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
হাবিবুর রহমান পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে বাড়িতে আসেন। তাঁর কাছে গরু বিক্রি করার ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, দুর্বৃত্তরা হাবিবুরের টাকা লুটের জন্য তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরেও এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন কেউ কেউ।
এদিকে ঘটনার আকস্মিকতায় স্তব্ধ বাহাদুরপুর গ্রাম। আজ সকালে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিহতের বাড়িতে এসে ভিড় করেছেন প্রতিবেশী ও স্বজনরা। কান্নায় ভেঙে পড়ছেন কেউ কেউ। স্বজনরা বলছেন, দোষীদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি যেন দেওয়া হয়।
নিহত পপির বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। বিলাপ করতে করতেই তিনি বলছিলেন, ‘আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার ফাঁসি চাই। আমার তিন বছরের নাতনিকেও তারা ছাড়েনি।’
নিহত হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিন বলেন, ‘জমিজমা-সংক্রান্ত বিষয়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। আমার মেয়ে, মেয়ে জামাই ও নাতিরা এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। তারা বিভিন্ন সময়ে আমার ছেলেসহ পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।’
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সবুজ হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান। নিহতদের মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’
বাড়িতে ভিড় করছেন প্রতিবেশী ও স্বজনরা
এর আগে সকালে ওসি হাবিবুর রহমান জানান, নিহতদের মধ্যে বাড়ির কর্তা হাবিবুর ও স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের সন্তানদের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতির উদ্দেশে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। পরে পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে ওই বাড়ির কর্তাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিপি) এবং থানা পুলিশের সমন্বয়ে তিনটি পৃথক পৃথক টিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে। আসামি গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে।