সোমবার , ২০ এপ্রিল ২০২৬
হোমরাজশাহীরাজশাহীতে মব করে দোকানসহ বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা

রাজশাহীতে মব করে দোকানসহ বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
রাজশাহীতে মব করে দোকানসহ বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা

রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার চৌদ্দপায় বিহাস মোড় এলাকায় মব সৃষ্টি করে দোকানঘর ও বসতবাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের কর্মচারী খলিলুর রহমানের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন খুশি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৬ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাটাখালি পৌরসভা জামায়াতের রোকন উজির আলীর ভাই জামায়াত কর্মী নজির আলী, রজব আলী ও মিলন আলীর সন্ত্রাসীদের নিয়ে গিয়ে তাদের বাড়ি ও দোকানঘর জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালান। এ সময় অভিযুক্তরা বাড়ি ভাংচুর করে এবং প্রধান ফটকের মাঝখানে নিজেদের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়।

খাদিজা ইয়াসমিন খুশি আরও বলেন, দখলচেষ্টায় বাধা দিলে তার ছোট ভাই কাউসার আলীকে মারধর করে এবং তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাদের উদ্ধার করে। প্রায় ৮ ঘন্টা তারা অবরুদ্ধ ছিলেন। এর পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। এমনকি ঘটনার পর দিন লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা ইয়াসমিন খুশি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা তাদের বাড়ি ও দোকানঘরে আগুন দেওয়াসহ প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এতে পুরো পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকি ও মানসিক চাপে তার বাবা আব্দুল খলিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।

এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান এবং দখলদারদের সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করে বাড়ি ও দোকান দখলমুক্ত করা, ভুয়া দলিল ও প্রভাব খাটিয়ে দখলচেষ্টাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দায়িত্বে অবহেলা ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা ইয়াসমিন খুশির মা রেবেনা খাতুন ও ভাই কাউসার আলী উপস্থিত ছিলেন। আর খুশির আরেক ভাই ও বোন বাবার সঙ্গে হাসপাতালে রয়েছেন।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত উজির আলী বলেন, আমরা কারো জমি দখল করতে যায়নি। আমাদের পৈতিৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে আমরা সাইনবোর্ড লাগিয়েছি।

মব সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সেদিন সেখানে যায়নি। আমার ভাই ও আত্নীয় স্বজনরা গিয়েছিলো। সেদিন এধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। খলিলের ছেলে কাওসার ঝামেলা করছিলো তাকে বাসায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিলো।

উজির আলী বলেন, খলিলুর রহমান মতিহার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৮৪ সালে তিনি সাড়ে তিন শতক জমি ক্রয় করে। কিন্তু ছয় শতক তিনি জবর দখল করে রেখেছেন। এ নিয়ে বসতে চাইলে আমরা বসতে রাজি আছি।

এ বিষয়ে খাদিজা ইয়াসমিন খুশি বলেন, জমি ছয় শতক। আমরা ক্রয় করেছি ছয় শতক। কিন্তু রেজিষ্ট্রি হয়েছে সাড়ে তিন শতাক। বাকিটা মহাসড়কের কারণে রেজিষ্ট্রি হয়নি। তবে মহাসড়কের সাথের জায়গাটি বে-দাবি উল্লেখ রয়েছে দলিলে। ওই জায়গা ছেড়ে তারা চারতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। পরে বাড়ির সামনে তারা দুইটি দোকান ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন।

মতিহার থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, সেখানে হামলা বা মব সৃষ্টির এমন ঘটনা ঘটেছে কিনা তা জানিনা। ওখানে জায়গা জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ আছে এবং আদালতে মামলা চলমান। তবে সন্ধ্যার পর আমি আইন শৃঙ্খলা যাতে বিঘ্ন না হয় এজন্য গিয়েছিলাম। আমি গিয়ে উজিরের লোকজনকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছি।

তিনি বলেন, ঘটনার পরের দিন পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ৫০ জনের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করে জমি দখলের অভিযোগ দিয়েছেন খলিলুর রহমান। অভিযোগটি তদন্তধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে পরবর্তি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাজশাহীতে মব করে দোকানসহ বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০২ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উপচার
 সোমবার , ২০ এপ্রিল ২০২৬
হোমরাজশাহীরাজশাহীতে মব করে দোকানসহ বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা

রাজশাহীতে মব করে দোকানসহ বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
রাজশাহীতে মব করে দোকানসহ বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা

রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার চৌদ্দপায় বিহাস মোড় এলাকায় মব সৃষ্টি করে দোকানঘর ও বসতবাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের কর্মচারী খলিলুর রহমানের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন খুশি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৬ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাটাখালি পৌরসভা জামায়াতের রোকন উজির আলীর ভাই জামায়াত কর্মী নজির আলী, রজব আলী ও মিলন আলীর সন্ত্রাসীদের নিয়ে গিয়ে তাদের বাড়ি ও দোকানঘর জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালান। এ সময় অভিযুক্তরা বাড়ি ভাংচুর করে এবং প্রধান ফটকের মাঝখানে নিজেদের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়।

খাদিজা ইয়াসমিন খুশি আরও বলেন, দখলচেষ্টায় বাধা দিলে তার ছোট ভাই কাউসার আলীকে মারধর করে এবং তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাদের উদ্ধার করে। প্রায় ৮ ঘন্টা তারা অবরুদ্ধ ছিলেন। এর পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। এমনকি ঘটনার পর দিন লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা ইয়াসমিন খুশি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা তাদের বাড়ি ও দোকানঘরে আগুন দেওয়াসহ প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এতে পুরো পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকি ও মানসিক চাপে তার বাবা আব্দুল খলিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।

এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান এবং দখলদারদের সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করে বাড়ি ও দোকান দখলমুক্ত করা, ভুয়া দলিল ও প্রভাব খাটিয়ে দখলচেষ্টাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দায়িত্বে অবহেলা ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা ইয়াসমিন খুশির মা রেবেনা খাতুন ও ভাই কাউসার আলী উপস্থিত ছিলেন। আর খুশির আরেক ভাই ও বোন বাবার সঙ্গে হাসপাতালে রয়েছেন।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত উজির আলী বলেন, আমরা কারো জমি দখল করতে যায়নি। আমাদের পৈতিৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে আমরা সাইনবোর্ড লাগিয়েছি।

মব সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সেদিন সেখানে যায়নি। আমার ভাই ও আত্নীয় স্বজনরা গিয়েছিলো। সেদিন এধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। খলিলের ছেলে কাওসার ঝামেলা করছিলো তাকে বাসায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিলো।

উজির আলী বলেন, খলিলুর রহমান মতিহার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৮৪ সালে তিনি সাড়ে তিন শতক জমি ক্রয় করে। কিন্তু ছয় শতক তিনি জবর দখল করে রেখেছেন। এ নিয়ে বসতে চাইলে আমরা বসতে রাজি আছি।

এ বিষয়ে খাদিজা ইয়াসমিন খুশি বলেন, জমি ছয় শতক। আমরা ক্রয় করেছি ছয় শতক। কিন্তু রেজিষ্ট্রি হয়েছে সাড়ে তিন শতাক। বাকিটা মহাসড়কের কারণে রেজিষ্ট্রি হয়নি। তবে মহাসড়কের সাথের জায়গাটি বে-দাবি উল্লেখ রয়েছে দলিলে। ওই জায়গা ছেড়ে তারা চারতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। পরে বাড়ির সামনে তারা দুইটি দোকান ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন।

মতিহার থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, সেখানে হামলা বা মব সৃষ্টির এমন ঘটনা ঘটেছে কিনা তা জানিনা। ওখানে জায়গা জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ আছে এবং আদালতে মামলা চলমান। তবে সন্ধ্যার পর আমি আইন শৃঙ্খলা যাতে বিঘ্ন না হয় এজন্য গিয়েছিলাম। আমি গিয়ে উজিরের লোকজনকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছি।

তিনি বলেন, ঘটনার পরের দিন পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ৫০ জনের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করে জমি দখলের অভিযোগ দিয়েছেন খলিলুর রহমান। অভিযোগটি তদন্তধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে পরবর্তি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাজশাহীতে মব করে দোকানসহ বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০২ এপ্রিল ২০২৬