শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রাজশাহীতে জেলা পুলিশের বিনম্র শ্রদ্ধা ও স্মরণ
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে। আজ সোমবার (১৪ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ১০টায় নগরীর শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ নাঈমুল হাসান। এ সময় তাঁর সঙ্গে রাজশাহী জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয়।
এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রাজশাহীর সম্মেলন কক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস–২০২৫ পালন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক জনাব আফিয়া আখতার।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রাজশাহীর সম্মেলন কক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস–২০২৫ পালন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) জনাব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ নাঈমুল হাসান এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার জনাব ড. মোঃ জিল্লুর রহমান। সভায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের মেধা ও নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে এবং তাদের আদর্শই আমাদের রাষ্ট্র গঠনের মূল প্রেরণা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাসান বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন জাতির বিবেক। শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, গবেষকসহ বিভিন্ন পেশার গুণী মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও তাদের চেতনা দমন করা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আরএমপি পুলিশ কমিশনার ড. মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, নতুন প্রজন্মের মাঝে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ইতিহাস ও অবদান তুলে ধরতে এ ধরনের আলোচনা সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাস জানলেই দেশপ্রেম, মানবিকতা ও ন্যায়বোধ জাগ্রত হবে।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং পরবর্তীতে আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরায় অংশগ্রহণকারীরা গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।