শুক্রবার , ১৬ অক্টোবর ২০২৬
হোম › রাজশাহী › পদ্মায় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই জেলের কারাদণ্ড

পদ্মায় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার

favicon
ফয়সাল আজম অপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
পদ্মায় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীতে যৌথ অভিযান চালিয়ে জব্দকৃত অবৈধ কারেন্ট ও রিং জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করছেন মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে সরকার ঘোষিত প্রজনন মৌসুমে পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ এবং বিধিনিষেধযুক্ত কারেন্ট জাল ব্যবহারের অপরাধে পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে দুই জেলেকে চার দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অভিযানে জব্দ হওয়া প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার কারেন্ট জাল ও ২০০ মিটার ক্ষতিকর রিং জাল প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলিমনগর ঘাট থেকে নারায়ণপুর এলাকা পর্যন্ত পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ জলসীমায় সমন্বিত এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকালে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে ইলিশ শিকারের হাতেনাতে দুই জেলেকে আটক করে যৌথ আভিযানিক দল। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ। তিনি অপরাধের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে আটক দুই জেলের প্রত্যেককে চার দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে জব্দকৃত মোট ১ হাজার ৪০০ মিটার অবৈধ ও মারণজাল নদীর পাড়ে জনসম্মুখে আগুনে ভস্মীভূত করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহীনূর রহমান এবং সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। পদ্মা নদীর জলসীমায় নিরাপত্তা ও অভিযান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে নৌপুলিশ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বিশেষ টহল দল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এ তৎপরতা প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকরামুল হক নাহিদ জানান, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের ডিম ছাড়ার পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখা, ইলিশের বংশবৃদ্ধি সুরক্ষা এবং নদীর প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থেই সরকার ২২ দিনের জন্য সব ধরনের ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে। সরকারের এই নির্দেশনা শতভাগ বাস্তবায়ন এবং জলসীমায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার চিরতরে বন্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। আইন অমান্যকারী যে কারও বিরুদ্ধে এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য খাতের সার্বিক সুরক্ষায় পদ্মা নদীর প্রতিটি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল জোরদার রাখা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জন্য নদীতীরবর্তী সকল জেলে ও পেশাজীবী সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

পদ্মায় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই জেলের কারাদণ্ড
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৬ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ১৬ অক্টোবর ২০২৬
হোম › রাজশাহী › পদ্মায় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই জেলের কারাদণ্ড

পদ্মায় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার

favicon
ফয়সাল আজম অপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
পদ্মায় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীতে যৌথ অভিযান চালিয়ে জব্দকৃত অবৈধ কারেন্ট ও রিং জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করছেন মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে সরকার ঘোষিত প্রজনন মৌসুমে পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ এবং বিধিনিষেধযুক্ত কারেন্ট জাল ব্যবহারের অপরাধে পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে দুই জেলেকে চার দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অভিযানে জব্দ হওয়া প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার কারেন্ট জাল ও ২০০ মিটার ক্ষতিকর রিং জাল প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলিমনগর ঘাট থেকে নারায়ণপুর এলাকা পর্যন্ত পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ জলসীমায় সমন্বিত এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকালে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে ইলিশ শিকারের হাতেনাতে দুই জেলেকে আটক করে যৌথ আভিযানিক দল। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ। তিনি অপরাধের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে আটক দুই জেলের প্রত্যেককে চার দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে জব্দকৃত মোট ১ হাজার ৪০০ মিটার অবৈধ ও মারণজাল নদীর পাড়ে জনসম্মুখে আগুনে ভস্মীভূত করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহীনূর রহমান এবং সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। পদ্মা নদীর জলসীমায় নিরাপত্তা ও অভিযান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে নৌপুলিশ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বিশেষ টহল দল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এ তৎপরতা প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকরামুল হক নাহিদ জানান, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের ডিম ছাড়ার পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখা, ইলিশের বংশবৃদ্ধি সুরক্ষা এবং নদীর প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থেই সরকার ২২ দিনের জন্য সব ধরনের ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে। সরকারের এই নির্দেশনা শতভাগ বাস্তবায়ন এবং জলসীমায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার চিরতরে বন্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। আইন অমান্যকারী যে কারও বিরুদ্ধে এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য খাতের সার্বিক সুরক্ষায় পদ্মা নদীর প্রতিটি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল জোরদার রাখা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জন্য নদীতীরবর্তী সকল জেলে ও পেশাজীবী সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

পদ্মায় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই জেলের কারাদণ্ড
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৬ অক্টোবর ২০২৬