থানাকে জিরো কমপ্লেইন ইউনিট করার আহ্বান আরএমপি কমিশনারের
রাজশাহী মহানগরীর সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। সোমবার রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরের সভাকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল এগারোটা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চলা এই দীর্ঘ পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএম।
সভায় মহানগরীর সামগ্রিক অপরাধচিত্র, মামলা রুজু ও নিষ্পত্তির অগ্রগতি, নির্ভুল ও সময়োপযোগী পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল, ওয়ারেন্ট তামিল এবং মাদকবিরোধী অভিযানের সার্বিক অগ্রগতি বিশদভাবে খতিয়ে দেখা হয়। আরএমপি কমিশনার বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনাগুলো দ্রুত ও সঠিকভাবে প্রতিপালনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। একই সঙ্গে মহানগরীর সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ক্ষতিকর হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করা, ফিটনেসবিহীন ও অনুমোদনহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে চেকপোস্টের কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেন। আবাসিক হোটেলগুলোতে নজরদারি বাড়িয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ ও জুয়ার আসর প্রতিরোধেও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পুলিশি সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার তাগিদ দেন পুলিশ কমিশনার। পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) ঘোষিত রূপরেখা অনুযায়ী প্রতিটি থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন ইউনিট’ হিসেবে রূপান্তর করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, থানায় আসা সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের সেবামূলক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অপমৃত্যু মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন তিনি।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মহানগরীর প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করার বিষয়ে সভায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পূজা শুরুর পূর্বপ্রস্তুতি থেকে শুরু করে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রুখতে গোয়েন্দা নজরদারি ও সার্বক্ষণিক টহল জোরদারের নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার। এছাড়া জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আগাম তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি মহানগরীতে একাকী বসবাসকারী প্রবীণ ও নারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা এবং প্রয়োজনীয় পুলিশি সুরক্ষা নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বর মাসে আরএমপির আওতাধীন এলাকায় ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে এ সময় ৮৮ দশমিক ৭০ গ্রাম হেরোইন, ৭ কেজি ৪২১ গ্রাম গাঁজা, ৪ হাজার ২৮৬ পিস ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৪৮৮ বোতল বিদেশি অ্যালকোহল এবং ৪৬ দশমিক ২৫ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়। মাদক সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মোট ১৬১টি নিয়মিত মামলা দায়েরের পাশাপাশি ২১৬ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের দায়ে বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে ২ হাজার ১০৮টি প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়। বিজ্ঞ আদালতের সামারি ট্রায়ালে ২৩ জন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
উক্ত অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, সকল উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং মহানগরের সকল থানার অফিসার ইনচার্জসহ (ওসি) পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।