নিয়ামতপুরে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ
নওগাঁর নিয়ামতপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের কর্মকর্তাদের চরম খামখেয়ালি, ঘুষ দাবি ও গ্রাহক হয়রানির চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। নিয়মমাফিক আবেদন, নির্ধারিত ফি এবং ব্যাংকের যাবতীয় অর্থ পরিশোধের পরও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ সেবা। উল্টো টেবিল থেকে টেবিলে বছরের পর বছর ঘুরতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের।
নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন নিয়ামতপুর জোনাল অফিসের সামনে রবিবার সকালে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক। উপজেলার ঘোষকুড়া গ্রামের বাসিন্দা মতিউর রহমান জানান, একটি সাধারণ আবাসিক মিটারের সংযোগের জন্য তিনি অনলাইনে দুই দফা আবেদন করেছেন। নিয়মানুযায়ী ওয়্যারিং শেষ করার পরও অফিসের পাওয়ার ইউজ কো-অর্ডিনেটর রফিকুল ইসলাম নানা খুঁত ধরে তা সংশোধনের অজুহাতে কালক্ষেপণ করেন। নির্দেশনা অনুযায়ী দ্বিতীয়বার ওয়্যারিং সম্পন্ন করে জমা দেওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সংযোগ দেওয়া হয়নি।
একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে তার শিল্প সংযোগের ট্রান্সফরমারটি পুড়ে যায়। অফিসের কর্মীরা এসে নষ্ট ট্রান্সফরমারটি খুলে নিয়ে গেলেও নতুন ট্রান্সফরমার বসানোর জন্য সরাসরি ২৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশের আর্থিক দায় কেন গ্রাহকের কাঁধে চাপানো হবে, তা নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
আবাসিক সংযোগের আরেক ভুক্তভোগী মুঞ্জুরুল আলম অভিযোগ করেন, আবেদন করার পর পরিদর্শনে এসে নানা মনগড়া অজুহাতে আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়। পুনরায় সব প্রক্রিয়া শেষ করলেও কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর বা সংযোগ মিলছে না।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পাওয়ার ইউজ কো-অর্ডিনেটর রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে গেলে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দ্রুত কার্যালয়ের ছাদে গিয়ে অবস্থান নেন। সাংবাদিকরা ছাদে ওঠার চেষ্টা করলে তিনি নিচে নেমে আসেন এবং কোনো বক্তব্য না দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিষয়ে মৌখিক ও লিখিত তথ্য কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।