রাজশাহীর ৮৫ পূজামণ্ডপে রাসিকের ১৭ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা
শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে রাজশাহী মহানগরীর ৮৫টি পূজামণ্ডপে মোট ১৭ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। প্রতিটি পূজামণ্ডপের অনুকূলে ২০ হাজার টাকা করে অনুদানের এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। রোববার বেলা সাড়ে এগারোটায় নগর ভবনের সিটি হল সভাকক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ, মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং মণ্ডপ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। একই সাথে মণ্ডপ প্রতিনিধিদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রতিটি মণ্ডপে দ্রুততম সময়ে ওয়াইফাই সংযোগ নিশ্চিত করার তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, দুর্গাপূজা যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। প্রশাসনের প্রতিটি দপ্তর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও নাগরিক সেবাসহ সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্রিন সিটি ও ক্লিন সিটির সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজশাহীকে একটি নিরাপদ, সন্ত্রাসমুক্ত ও মাদকমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নগরবাসীর আন্তরিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।
রাসিকের সচিব সোহেল রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ফারুক হোসেন। অনুষ্ঠানে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মোঃ মামুন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার সাহা, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফসহ পূজা উদযাপন পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উৎসব নির্বিঘ্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি মণ্ডপভিত্তিক নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা এবং নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া মণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, পার্শ্ববর্তী সড়ক মেরামত ও আলোকসজ্জা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং বিসর্জন ঘাটে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
রাসিকের আর্থিক অনুদানপ্রাপ্ত ৮৫টি পূজামণ্ডপের মধ্যে রয়েছে কেশবপুর শিবমন্দির, বুলনপুর শিবমন্দির কমিটি, রাজশাহী কোর্ট হড়গ্রাম মন্দির, বুলনপুর হরিজন পল্লীর শ্রী শ্রী শিবমন্দির, লক্ষ্মীপুর বাগানপাড়ার শ্রী শ্রী দুর্গামাতার মন্দির, আইডি বাগানপাড়ার শিব নারায়ণ সংঘ, শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ বিদ্যা মন্দির, লক্ষ্মীপুরের শ্রী রবিদাস ভক্ত মন্দির, বেতিয়াপাড়া পার্ক গেট সংলগ্ন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, শ্রীরামপুর শিবমন্দির, চণ্ডীপুরের কালীমাতার মন্দির, ফায়ার ব্রিগেড মোড়ের নতুন সংঘ পূজা উদযাপন কমিটি, কাদিরগঞ্জের কালীমাতার মন্দির, রাজারহাতার কালীমাতার মন্দির ও শিবমন্দির পূজা কমিটি, হেতমখাঁ হরিজন শিবমন্দির কমিটি, শেখপাড়া শ্রী শ্রী দুর্গামাতার মিলন মন্দির, গণকপাড়ার রাজশাহী ধর্মসভা ও বৈষ্ণব সভা, জিরোপয়েন্টের শ্রী শ্রী গোপীনাথ দেব বিগ্রহ লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির হনুমান জিউর আখড়া, ঘোষপাড়ার পদ্মা সার্বজনীন পূজা কমিটি, কুমারপাড়ার কবিরাজবাড়ী আনন্দময়ী পূজা মন্দির, সনাতন ধর্ম সংঘ, মাতৃছায়া, ঘোষপাড়া অগ্নিবীণা সংঘ, প্যারাডাইস টাওয়ারের রাধাকান্ত মন্দির ও সংঘ চলো ঠাকুর দেখি।
তালিকায় আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ফুদকিপাড়ার কালীমাতা মন্দির, কল্পতরু, গীতাঞ্জলী ও অম্বিকা সংঘ, মালোপাড়ার শ্রী শ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ দেব বিগ্রহ মন্দির, রাণীবাজারের টাইগার সংঘ, তারিনী মিত্রের মাঠের টাইগার পূজা কমিটি ও এ্যারোহেড ক্লাব, বোয়ালিয়া পাড়ার লাঠিয়াল মণ্ডপ ও কারুশ্রী, রামকৃষ্ণ আশ্রম, নবরূপ পূজা কমিটি, সাহেববাজার কালীমাতার মন্দির, ষষ্ঠীতলার আদি কালীস্থান দুর্গা মন্দির ও শিবমন্দির, রেলগেট হরিজন পল্লীর সৎ সংঘ, মালদাকলোনীর করুণাময়ী সংঘ, সপুরার শ্রী শ্রী লোকনাথ বাবা মন্দির, ওমরপুর পূজা কমিটি, নওদাপাড়ার লোকনাথ ব্রহ্মচারী মন্দির, মথুরডাঙ্গা পবাপাড়ার চতুর্বেদী সার্বজনীন মন্দির, সুজানগরের বুদ্ধেশ্বর মন্দির, রেশমপট্টির দিগন্ত সার্বজনীন মন্দির, বেলদারপাড়ার স্বপ্ন কুটির, সুলতানাবাদের দেবালয় পূজা কমিটি, অলকার মোড়ের রীঁ বরদা মাতা মন্দির, ঘোড়ামারার জোড়া শিবমন্দির, সর্বজয়ী, কসমস পূজা কমিটি, লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির-পাঁচু মণ্ডল আখড়া, স্বর্ণকারপট্টির চন্দ্রমণি সংঘ ও প্রতিশ্রুতি শারদীয় দুর্গাপূজা কমিটি।
এ ছাড়া বোয়ালিয়া থানার মোড়ের উৎসর্গ সংঘ, শাহ মখদুম কলেজ সংলগ্ন আরাধনা ও ত্রিনয়নী সংঘ, সাগরপাড়ার শিবালয়, দেব মাতা, মা জননী, আরণ্যক, মেঘদূত, বরেন্দ্র গোষ্ঠী ও আচার্য্যধাম পূজা উদযাপন কমিটি, সেখেরচকের নীহারিকা, গঙ্গা মন্দির, পারিজাত সংঘ ও সাধারণ পূজা উদযাপন কমিটি, বোসপাড়ার শারদ সংঘ ও শঙ্খচূড়া সার্বজনীন পরিষদ, তালাইমারী কালীমাতার মন্দির, রামচন্দ্রপুর কালীমাতার মন্দির, পদ্মা আবাসিক পূজা পরিষদ, মেহেরচণ্ডীর শ্রী শ্রী গোপাল দেব ঠাকুর মন্দির, কাজলার সনাতন ধর্ম সংঘ, ডাঁশমারী শিবমন্দির, খোঁজাপুর সার্বজনীন শিব ও কালীমাতা মন্দির, মির্জাপুরের হিন্দু মৈত্রী সংঘ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হরিজন কোয়ার্টারের নতুন জাগরণ পূজা কমিটির প্রতিনিধিবৃন্দের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।