জিএস আরিফুলের বহিষ্কারের সুপারিশ প্রত্যাহার না হলে রাকসুর কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তাঁর বিভাগের সহপাঠী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে এ বৈষম্যমূলক ও একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে ক্যাম্পাসে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামের কাছে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত স্মারকলিপি পেশ করেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
উপাচার্য বরাবর প্রদত্ত স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ৪ অক্টোবর ক্যাম্পাসে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকর্মীর প্রকাশ্য অস্ত্রের মহড়া এবং দেশীয় অস্ত্র মজুত সংক্রান্ত ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও একজন সচেতন প্রতিনিধির দায়বদ্ধতা থেকে বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন আরিফুল ইসলাম। এর জের ধরে ওই দিন সন্ধ্যায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ঢুকে তাঁর ব্যক্তিগত কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালায়। শুধু তা-ই নয়, দায়িত্ব পালনকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পেশাদার আট থেকে দশজন সংবাদকর্মীর ওপরও বর্বর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করা হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি ৯ অক্টোবর যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে মূল হামলাকারী ও অবৈধ অস্ত্রের মহড়ায় জড়িত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুপারিশ না করে উল্টো ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ধরনের সুপারিশকে প্রহসনমূলক, চরম একপাক্ষিক ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করেন তাঁরা।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট ভাষায় দুটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিলের বিতর্কিত সুপারিশ অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং হলে তাণ্ডব, ক্যাম্পাসে অস্ত্রের মহড়া ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার, মতিহার হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) তাইজুল ইসলামসহ ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন মূল অপরাধীদের আড়াল করে নির্দোষ শিক্ষার্থীর ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটে উপাচার্য বিষয়টি সুবিবেচনা করে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আরও যুক্ত করেন, আরিফুলের সঙ্গে যাদের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে তাদের কেউই নিয়মিত শিক্ষার্থী নন; কেউ পড়ালেখা ছেড়ে দিয়েছেন, কেউ প্রক্সি কেলেঙ্কারিতে জড়িত আবার কেউ বহু পুরোনো শিক্ষাবর্ষের। এমন অনিয়মিতদের তালিকায় একজন নিয়মিত ও সম্ভাবনাময় ছাত্রপ্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করে একই দণ্ড দেওয়া চরম প্রশাসনিক বৈষম্য ছাড়া আর কিছুই নয়। এ অন্যায় মেনে নেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তিনি অন্য দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকার সময়ে শিক্ষার্থীরা এসে স্মারকলিপিটি দিয়ে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য না করে তিনি জানান, নিয়মিত অফিস খোলার পর কর্মদিবসে স্মারকলিপির দাবিগুলো পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।