রাজশাহীতে ইপিআই ও এইচপিভি টিকাদান অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত
রাজশাহী বিভাগজুড়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান এবং ডিজিটাল ই-ট্র্যাকার ব্যবস্থার অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর হোটেল এক্স-এর কনভেনশন হলে এই পর্যালোচনা কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ, গ্যাভি এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের যৌথ কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তায় কর্মশালাটি বাস্তবায়িত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এমপি।
রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুকে সংক্রামক ব্যাধি থেকে সুরক্ষিত রাখতে ইপিআই কার্যক্রমে শতভাগ সফলতা অর্জন এবং কিশোরীদের জরায়ুমুখ ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতে এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি আরও উল্লেখ করেন, টিকাদানের নির্ভুল তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিটি শিশুকে ট্র্যাক করতে ডিজিটাল ‘ই-ট্র্যাকার’ ব্যবস্থাপনার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের উপপরিচালক ডা. মো. রফিকুল হাসান এবং বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) সৈয়দ মোস্তাক হাসান।
এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে অংশ নেন জেলা তথ্য অফিস রাজশাহীর পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) রাফেয়ালা নাসরিন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহিদা ইয়াসমিন, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. রওশন আখতার এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের কান্ট্রি অফিসের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক ও টিকাদান কার্যক্রমের প্রধান ডা. রিয়াদ মাহমুদসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার টিকাদান কাভারেজ, ড্রপ-আউট রেট কমানোর কৌশল, ভ্যাকসিন কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা, আধুনিক ই-ট্র্যাকার প্রযুক্তির ব্যবহারে মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ নিরসন এবং সার্বিক জনস্বাস্থ্য সেবার গুণগত মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।