বাগমারায় শিক্ষককে বেআইনি বরখাস্তের অভিযোগ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের অভ্যাগতপাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শ্রী নীরেন্দ্রনাথ প্রাংকে বিধি লঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইয়ানুছ আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় শিক্ষক সমাজ, অভিভাবক ও সাধারণ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি আমলে নিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাগমারা উপজেলা প্রশাসন। গত ৫ অক্টোবর বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না এ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।
গঠিত তদন্ত কমিটিতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আহসান হাবিবকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ড. মো. আ. মৌমিত।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যথাযথ প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীতি অনুসরণ না করে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো ধরনের সুযোগ না দিয়েই সহকারী শিক্ষক শ্রী নীরেন্দ্রনাথ প্রাংকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষকের দাবি, কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং পুনরায় চাকরিতে পুনর্বহালসহ ন্যায়বিচারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইয়ানুছ আলী। তার দাবি, শ্রী নীরেন্দ্রনাথ প্রাং মাধ্যমিকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমাধ্যমিক স্তরের হওয়ায় তিনি স্বেচ্ছায় বিদ্যালয় ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যালয়ে যোগদানের সময় প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ওই শিক্ষক ৭০ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে দিয়েছিলেন, যা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাকে ফেরত দেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বাগমারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আহসান হাবিব জানান, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তারা প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিধিবিধান মানা হয়েছিল কি না এবং অভিযোগের পেছনে মূল কারণ কী-তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষে সত্যতা নিরূপণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
সচেতন মহলের মতে, তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে চাকরিচ্যুতির নেপথ্যের আসল চিত্র এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত হবে।