রামেবি ভিসির কার্যালয় পরিদর্শন করলেন রাজনৈতিক নেতারা, রাতে আসছেন ভূমিমন্ত্রী
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য ও তার ব্যক্তিগত সহকারীকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার মধ্যরাতে মহানগরীর রাজপাড়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বহরমপুর মোড় এলাকার মো. আলী আকবর হোসাইন (৩০) ও একই এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন (৫৫)। আলী আকবর ওই এলাকার আবদুল হান্নানের ছেলে এবং দেলোয়ার হোসেন প্রয়াত আলীমুদ্দীন শেখের ছেলে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গাজীউর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অপ্রীতিকর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের দলীয় সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তবে প্রাথমিক তদন্তে এখনও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে শিক্ষাঙ্গনটির অস্থায়ী ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখার আদেশে সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেনকে ক্যাম্পাসে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন এবং অপরাধ প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে উপাচার্যের অবরুদ্ধ কার্যালয়ের তালা খোলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইন জানান, প্রশাসনের উপস্থিতিতে উপাচার্যের কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ভূমিমন্ত্রী রাতে রাজশাহীতে আসছেন এবং তিনি ক্যাম্পাস পরিদর্শনের পর নীতিনির্ধারণী যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এর আগে সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী উলামা দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও তালাবদ্ধ কক্ষগুলো পরিদর্শন করেন। তারা দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।