সোমবার , ০৩ আগস্ট ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদচারঘাটে চোরের অভয়ারণ্য, ছয় মাসে দেড় শতাধিক চুরি

চারঘাটে চোরের অভয়ারণ্য, ছয় মাসে দেড় শতাধিক চুরি

favicon
শাহিনুর সুজন,স্টাফ রিপোর্টার:
চারঘাটে চোরের অভয়ারণ্য, ছয় মাসে দেড় শতাধিক চুরি

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় যেন চোরদের অবাধ বিচরণ। বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সরকারি অফিস এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়ও রক্ষা পাচ্ছে না। গত ছয় মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেড় শতাধিকের বেশি চুরির ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয়নি মামলা, ধরা পড়েনি কোনো সংঘবদ্ধ চক্র। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ঘটনা সাধারণ ডায়েরি কিংবা লিখিত আবেদনের মধ্যেই আটকে আছে। প্রতিকার না পেয়ে অনেকে থানায় অভিযোগ করাও ছেড়ে দিয়েছেন।

মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান, ভুক্তভোগী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযোগ তদন্তে ধীরগতি, রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজারে কার্যকর ব্যবসায়ী কমিটির অনুপস্থিতি, নৈশপ্রহরীর সংকট এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে চারঘাটজুড়ে নিরাপত্তাহীনতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

চারঘাট বাজারের ফুটপাতে নরসুন্দরের কাজ করেন উৎপল কুমার। গত জুন মাসে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন দফা চুরি হয়েছে তাঁর বাড়িতে। প্রথমে হাঁস-মুরগি, এরপর নলকূপ, রান্নার সামগ্রী এবং সর্বশেষ কিস্তিতে কেনা সাবমারসিবল পাম্প চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

উৎপল কুমার বলেন,আমার আগে পাশের বাড়িতেও চুরি হয়েছে, এখনও হচ্ছে। থানায় অভিযোগ করেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই আর লিখিত অভিযোগ করিনি।

গত ২০ জুলাই রাতে উপজেলার নন্দনগাছী বাজারের লাবিব এন্টারপ্রাইজ নামের সার ও কীটনাশকের দোকানের টিনের ছাদ কেটে প্রায় ১০ লাখ টাকার নগদ অর্থ, সার ও কীটনাশক চুরি হয়। একই রাতে রিপন জুয়েলার্স থেকেও ৩৫ ভরি রুপা চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।

চারঘাট বাজারের আড়ানী রোডে শুকচাঁন ভ্যারাইটিজ স্টোর এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি স্বপন কুমারের অফিস থেকে এসি চুরি হয়েছে। আগের অভিযোগে কোনো ফল না পাওয়ায় এবার থানায় যাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। চৌরাস্তা মোড়ে মোশাররফ হোসেনের হার্ডওয়্যারের দোকানেও চুরি হলেও চোরদের ভয়ে তিনি অভিযোগ করেননি। বাঁকড়া বাজারে একসঙ্গে তিনটি রাইস মিলের বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ মিটার চুরি হলেও চোরদের শনাক্ত করা যায়নি।

বাড়ি থেকেও উধাও গরু, ছাগল, মোটরসাইকেল:-

উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামে নাজিম উদ্দিনের গোয়ালঘরের দেয়াল ভেঙে একটি গাভী ও তিনটি ছাগল চুরি হয়েছে।

নাজিম উদ্দিনের ভাতিজা পিয়াস আলী বলেন,প্রায় দুই লাখ টাকার গরু-ছাগল গেছে। অভিযোগ করলেও কিছু হবে না, বরং চোরদের উৎপাত বাড়বে এই ভয়েই থানায় যাইনি।

ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বাটিকামারী গ্রামে হাফিজুর রহমানের আট মাসের গর্ভবতী ফ্রিজিয়ান গাভী চুরি হয়েছে। চারঘাট মডেল থানার অদূরে বাবু কর্মকারের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল চুরি হয়। অভিযোগের পরও পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে না যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। মেরামতপুর গ্রামের ভ্যানচালক মিঠুন আলীর জীবিকার একমাত্র সম্বল ভ্যানটিও চুরি হয়ে গেছে।

হাসপাতাল, স্কুল, সরকারি অফিসও রক্ষা পাচ্ছে না :-

চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের মালামাল, মোটরসাইকেল, ভ্যানের পাশাপাশি হাসপাতালের আবাসিক ভবনের দরজা-জানালা, পানির পাইপ, গ্রিল এমনকি বিশুদ্ধ পানির মেশিনের যন্ত্রাংশও চুরি হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক রেজা বলেন,যা পাচ্ছে তাই নিয়ে যাচ্ছে। রোগীর স্বজনরাও নিয়মিত অভিযোগ করছেন। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু পুলিশ একদিনও টহল দেয়নি। আমরা চিকিৎসা দেব, নাকি চোর পাহারা দেব?

উপজেলা পরিষদ চত্বরে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয় থেকে সব ফ্যান চুরি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাচীরের লোহার গ্রিল খুলে নিয়ে গেছে চোরেরা। সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

চারঘাট মডেল থানার মাত্র ২০ মিটার দূরের পদ্মা উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই দফা চুরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের রং করার জন্য আনা সব রং এবং পরবর্তীতে সব সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। একইভাবে চারঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফরহাত আলাউদ্দিন মডেল স্কুল এবং সদর এলাকার স্লুইসগেট শিবমন্দিরেও চুরির ঘটনা ঘটেছে।

ব্যবসায়ী কমিটি নেই, ভেঙে পড়েছে বাজারের নিরাপত্তা :-

চারঘাটের তিনটি বড় বাজারেই কার্যকর নির্বাচিত ব্যবসায়ী কমিটি না থাকায় নৈশপ্রহরী নিয়োগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

চারঘাট পৌর বাজারে টানা আট বছর ধরে ব্যবসায়ী কমিটি নেই। কয়েক দফা নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি এক নৈশপ্রহরীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনাতেও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় অন্য প্রহরীদের মধ্যেও দায়িত্ব পালনে অনীহা তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি চাঁন মিয়া বলেন, আট বছর ধরে কমিটি নেই। বারবার নির্বাচন চাইলেও তা হচ্ছে না। এতে বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

নন্দনগাছী ও বাঁকড়া বাজারেও নির্বাচিত কমিটি না থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

অভিযোগ করেও মিলছে না প্রতিকার;-

চারঘাট বাজারে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ী রিন্টু কুমারের ইলেকট্রনিকস দোকানে ছয় মাস আগে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়। অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তদন্তের কোনো অগ্রগতি হয়নি।

রিন্টু কুমার বলেন,প্রথম অভিযোগ দেওয়ার পর থানায় গিয়ে শুনি কাগজই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অভিযোগ দিলাম। ছয় মাসেও পুলিশ একবার তদন্তে আসেনি।

চারঘাট উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলাজুড়ে অসংখ্য চুরির ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ করলেও তদন্ত এগোয় না। তাই মানুষ এখন থানায় যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

এ বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন,আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। সব অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজারে চুরি প্রতিরোধে ব্যবসায়ী কমিটিকে সক্রিয় করার বিষয়েও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন,বাজার ব্যবসায়ী কমিটি এবং সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা নিয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একের পর এক চুরির ঘটনায় যখন মানুষ ঘর, দোকান, স্কুল, হাসপাতাল কোথাও নিরাপদ বোধ করছে না, তখন চারঘাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দায় নেবে কে?

চারঘাটে চোরের অভয়ারণ্য, ছয় মাসে দেড় শতাধিক চুরি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০২ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 সোমবার , ০৩ আগস্ট ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদচারঘাটে চোরের অভয়ারণ্য, ছয় মাসে দেড় শতাধিক চুরি

চারঘাটে চোরের অভয়ারণ্য, ছয় মাসে দেড় শতাধিক চুরি

favicon
শাহিনুর সুজন,স্টাফ রিপোর্টার:
চারঘাটে চোরের অভয়ারণ্য, ছয় মাসে দেড় শতাধিক চুরি

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় যেন চোরদের অবাধ বিচরণ। বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সরকারি অফিস এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়ও রক্ষা পাচ্ছে না। গত ছয় মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেড় শতাধিকের বেশি চুরির ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয়নি মামলা, ধরা পড়েনি কোনো সংঘবদ্ধ চক্র। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ঘটনা সাধারণ ডায়েরি কিংবা লিখিত আবেদনের মধ্যেই আটকে আছে। প্রতিকার না পেয়ে অনেকে থানায় অভিযোগ করাও ছেড়ে দিয়েছেন।

মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান, ভুক্তভোগী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযোগ তদন্তে ধীরগতি, রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজারে কার্যকর ব্যবসায়ী কমিটির অনুপস্থিতি, নৈশপ্রহরীর সংকট এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে চারঘাটজুড়ে নিরাপত্তাহীনতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

চারঘাট বাজারের ফুটপাতে নরসুন্দরের কাজ করেন উৎপল কুমার। গত জুন মাসে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন দফা চুরি হয়েছে তাঁর বাড়িতে। প্রথমে হাঁস-মুরগি, এরপর নলকূপ, রান্নার সামগ্রী এবং সর্বশেষ কিস্তিতে কেনা সাবমারসিবল পাম্প চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

উৎপল কুমার বলেন,আমার আগে পাশের বাড়িতেও চুরি হয়েছে, এখনও হচ্ছে। থানায় অভিযোগ করেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই আর লিখিত অভিযোগ করিনি।

গত ২০ জুলাই রাতে উপজেলার নন্দনগাছী বাজারের লাবিব এন্টারপ্রাইজ নামের সার ও কীটনাশকের দোকানের টিনের ছাদ কেটে প্রায় ১০ লাখ টাকার নগদ অর্থ, সার ও কীটনাশক চুরি হয়। একই রাতে রিপন জুয়েলার্স থেকেও ৩৫ ভরি রুপা চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।

চারঘাট বাজারের আড়ানী রোডে শুকচাঁন ভ্যারাইটিজ স্টোর এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি স্বপন কুমারের অফিস থেকে এসি চুরি হয়েছে। আগের অভিযোগে কোনো ফল না পাওয়ায় এবার থানায় যাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। চৌরাস্তা মোড়ে মোশাররফ হোসেনের হার্ডওয়্যারের দোকানেও চুরি হলেও চোরদের ভয়ে তিনি অভিযোগ করেননি। বাঁকড়া বাজারে একসঙ্গে তিনটি রাইস মিলের বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ মিটার চুরি হলেও চোরদের শনাক্ত করা যায়নি।

বাড়ি থেকেও উধাও গরু, ছাগল, মোটরসাইকেল:-

উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামে নাজিম উদ্দিনের গোয়ালঘরের দেয়াল ভেঙে একটি গাভী ও তিনটি ছাগল চুরি হয়েছে।

নাজিম উদ্দিনের ভাতিজা পিয়াস আলী বলেন,প্রায় দুই লাখ টাকার গরু-ছাগল গেছে। অভিযোগ করলেও কিছু হবে না, বরং চোরদের উৎপাত বাড়বে এই ভয়েই থানায় যাইনি।

ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বাটিকামারী গ্রামে হাফিজুর রহমানের আট মাসের গর্ভবতী ফ্রিজিয়ান গাভী চুরি হয়েছে। চারঘাট মডেল থানার অদূরে বাবু কর্মকারের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল চুরি হয়। অভিযোগের পরও পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে না যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। মেরামতপুর গ্রামের ভ্যানচালক মিঠুন আলীর জীবিকার একমাত্র সম্বল ভ্যানটিও চুরি হয়ে গেছে।

হাসপাতাল, স্কুল, সরকারি অফিসও রক্ষা পাচ্ছে না :-

চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের মালামাল, মোটরসাইকেল, ভ্যানের পাশাপাশি হাসপাতালের আবাসিক ভবনের দরজা-জানালা, পানির পাইপ, গ্রিল এমনকি বিশুদ্ধ পানির মেশিনের যন্ত্রাংশও চুরি হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক রেজা বলেন,যা পাচ্ছে তাই নিয়ে যাচ্ছে। রোগীর স্বজনরাও নিয়মিত অভিযোগ করছেন। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু পুলিশ একদিনও টহল দেয়নি। আমরা চিকিৎসা দেব, নাকি চোর পাহারা দেব?

উপজেলা পরিষদ চত্বরে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয় থেকে সব ফ্যান চুরি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাচীরের লোহার গ্রিল খুলে নিয়ে গেছে চোরেরা। সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

চারঘাট মডেল থানার মাত্র ২০ মিটার দূরের পদ্মা উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই দফা চুরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের রং করার জন্য আনা সব রং এবং পরবর্তীতে সব সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। একইভাবে চারঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফরহাত আলাউদ্দিন মডেল স্কুল এবং সদর এলাকার স্লুইসগেট শিবমন্দিরেও চুরির ঘটনা ঘটেছে।

ব্যবসায়ী কমিটি নেই, ভেঙে পড়েছে বাজারের নিরাপত্তা :-

চারঘাটের তিনটি বড় বাজারেই কার্যকর নির্বাচিত ব্যবসায়ী কমিটি না থাকায় নৈশপ্রহরী নিয়োগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

চারঘাট পৌর বাজারে টানা আট বছর ধরে ব্যবসায়ী কমিটি নেই। কয়েক দফা নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি এক নৈশপ্রহরীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনাতেও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় অন্য প্রহরীদের মধ্যেও দায়িত্ব পালনে অনীহা তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি চাঁন মিয়া বলেন, আট বছর ধরে কমিটি নেই। বারবার নির্বাচন চাইলেও তা হচ্ছে না। এতে বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

নন্দনগাছী ও বাঁকড়া বাজারেও নির্বাচিত কমিটি না থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

অভিযোগ করেও মিলছে না প্রতিকার;-

চারঘাট বাজারে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ী রিন্টু কুমারের ইলেকট্রনিকস দোকানে ছয় মাস আগে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়। অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তদন্তের কোনো অগ্রগতি হয়নি।

রিন্টু কুমার বলেন,প্রথম অভিযোগ দেওয়ার পর থানায় গিয়ে শুনি কাগজই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অভিযোগ দিলাম। ছয় মাসেও পুলিশ একবার তদন্তে আসেনি।

চারঘাট উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলাজুড়ে অসংখ্য চুরির ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ করলেও তদন্ত এগোয় না। তাই মানুষ এখন থানায় যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

এ বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন,আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। সব অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজারে চুরি প্রতিরোধে ব্যবসায়ী কমিটিকে সক্রিয় করার বিষয়েও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন,বাজার ব্যবসায়ী কমিটি এবং সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা নিয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একের পর এক চুরির ঘটনায় যখন মানুষ ঘর, দোকান, স্কুল, হাসপাতাল কোথাও নিরাপদ বোধ করছে না, তখন চারঘাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দায় নেবে কে?

চারঘাটে চোরের অভয়ারণ্য, ছয় মাসে দেড় শতাধিক চুরি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০২ আগস্ট ২০২৬