সৌন্দর্যবর্ধনের কাজেই বিপত্তি, সরমংলা ইকো পার্কে ওয়াকওয়ে ধস
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র সরমংলা ইকো পার্কে নবনির্মিত ওয়াকওয়ে ও গাইড ওয়ালের একটি অংশ বর্ষার প্রথম দফার বৃষ্টিতেই ধসে পড়েছে। এতে খাড়ির পাড়ের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা রেলিং ও দর্শনার্থীদের বসার বেঞ্চ শূন্যে ঝুলে থাকায় সেখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-এর ব্যবস্থাপনায় ‘বরেন্দ্র এলাকায় খালে পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় পার্কটির সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়াকওয়ের একটি অংশ ধসে পড়ায় নির্মাণমান ও কারিগরি পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধসে পড়া অংশে কংক্রিট ও ইটের গাঁথুনি ভেঙে গেছে। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং মাটি সরে যাওয়ায় ওয়াকওয়ের রেলিং ও বসার বেঞ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, পর্যাপ্ত মাটি পরীক্ষা না করা এবং টেকসই প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সরমংলা ইকো পার্ক কৃত্রিম খাল, সবুজ বনায়ন ও প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী, বিশেষ করে পরিবার-পরিজন ও শিশুরা এখানে বেড়াতে আসেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ওয়াকওয়েটি বর্তমানে জননিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএমডিএর গোদাগাড়ী অঞ্চলের কর্মকর্তা লতিফ বলেন, “মূল প্রকল্পে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য আলাদা কোনো বাজেট ছিল না। পাইপলাইন নির্মাণকাজের সময় ঠিকাদারকে দিয়ে অতিরিক্তভাবে ওয়াকওয়ের কাজ করানো হয়েছিল। অতিবৃষ্টির কারণেই ওয়াকওয়ের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে।” তবে নির্মাণমান বা অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষতিগ্রস্ত অংশে দ্রুত প্রকৌশলগত তদন্ত, নিরাপদ পুনর্নির্মাণ এবং ভবিষ্যতে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।