মঙ্গলবার , ২১ জুলাই ২০২৬
হোমরাজশাহীগোদাগাড়ীতে স্কেভেটর ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি

গোদাগাড়ীতে স্কেভেটর ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি

যুবকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
গোদাগাড়ীতে স্কেভেটর ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার জলাহার গ্রামে স্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি খননের কাজ বন্ধ করে চাঁদা দাবি এবং ব্যবসায়ীকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী স্কেভেটর ব্যবসায়ী মো. কামরুজ্জামান (৩০) গোদাগাড়ী থানা আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে গোদাগাড়ী উপজেলার আতাহার মোড় এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. মুরসালিন মুসা (২৭)-কে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় ১০ বছর ধরে ট্রাক্টর ও স্কেভেটর ভাড়ার ব্যবসা করে আসছেন কামরুজ্জামান। সম্প্রতি জলাহার গ্রামে তার ভাড়া দেওয়া একটি স্কেভেটর দিয়ে মাটি খননের কাজ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই আসামি মুরসালিন মুসা নিয়মিত চাঁদা দাবি করতে থাকেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৪ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বাদীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করে প্রতিদিন পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। বাদীর দাবি, ওই ফোনালাপের অডিও রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে একই রাতের শেষভাগে, ভোর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে মুরসালিন মুসা তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে চলমান মাটি খননের কাজ বন্ধ করে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে ঘিরে ধরে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি চাঁদা না দিয়ে কাজ চালিয়ে গেলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় স্কেভেটর চালক তৌহিদ এবং স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ঘটনার পরপরই গোদাগাড়ী থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয় বলে দাবি করেন বাদী। তিনি বলেন, "আমি দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ব্যবসা করে আসছি। কিন্তু চাঁদা না দেওয়ায় আমার ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৮৫ ধারায় (চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন) এবং ৫০৬(২) ধারায় (প্রাণনাশের হুমকি) মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে অডিও রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুরসালিন মুসার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

মামলার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনার পর আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গোদাগাড়ীতে স্কেভেটর ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৭ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উপচার
 মঙ্গলবার , ২১ জুলাই ২০২৬
হোমরাজশাহীগোদাগাড়ীতে স্কেভেটর ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি

গোদাগাড়ীতে স্কেভেটর ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি

যুবকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
গোদাগাড়ীতে স্কেভেটর ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার জলাহার গ্রামে স্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি খননের কাজ বন্ধ করে চাঁদা দাবি এবং ব্যবসায়ীকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী স্কেভেটর ব্যবসায়ী মো. কামরুজ্জামান (৩০) গোদাগাড়ী থানা আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে গোদাগাড়ী উপজেলার আতাহার মোড় এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. মুরসালিন মুসা (২৭)-কে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় ১০ বছর ধরে ট্রাক্টর ও স্কেভেটর ভাড়ার ব্যবসা করে আসছেন কামরুজ্জামান। সম্প্রতি জলাহার গ্রামে তার ভাড়া দেওয়া একটি স্কেভেটর দিয়ে মাটি খননের কাজ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই আসামি মুরসালিন মুসা নিয়মিত চাঁদা দাবি করতে থাকেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৪ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বাদীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করে প্রতিদিন পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। বাদীর দাবি, ওই ফোনালাপের অডিও রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে একই রাতের শেষভাগে, ভোর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে মুরসালিন মুসা তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে চলমান মাটি খননের কাজ বন্ধ করে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে ঘিরে ধরে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি চাঁদা না দিয়ে কাজ চালিয়ে গেলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় স্কেভেটর চালক তৌহিদ এবং স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ঘটনার পরপরই গোদাগাড়ী থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয় বলে দাবি করেন বাদী। তিনি বলেন, "আমি দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ব্যবসা করে আসছি। কিন্তু চাঁদা না দেওয়ায় আমার ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৮৫ ধারায় (চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন) এবং ৫০৬(২) ধারায় (প্রাণনাশের হুমকি) মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে অডিও রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুরসালিন মুসার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

মামলার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনার পর আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গোদাগাড়ীতে স্কেভেটর ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৭ জুলাই ২০২৬