রাজশাহী,,

প্রশ্নফাঁসের মূলে যেতে পারছি না

(নবম জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী)

উপচার ডেস্ক : সাম্প্রতিক প্রশ্নফাঁস বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ইতোমধ্যে প্রশ্নফাঁসে জড়িত অভিযোগে ৫২ মামলায় ১৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবুও আমরা প্রশ্নফাঁসের মূলে যেতে পারছি না। এটা আমাদের হাতে নেই। এটা করতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। নবম জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ‘বিতর্ক বিকাশ’ এর চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করার পরও কেউ না কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে। প্রশ্ন তৈরি থেকে বণ্টন প্রক্রিয়ার সাথে প্রায় দেড়লাখ মানুষ জড়িত। এর মধ্যে কেউ না কেউ মূল্যবোধ বিক্রি করছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করলেও আমাদের পক্ষে একা পাহারা দিয়ে সবকিছু করা সম্ভব নয়। তাই শিক্ষক, অভিভাবক ও জনগণসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিরোধ করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আরো বলেন, প্রশ্নফাঁস রোধে এই মুহূর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনে যাবে না। তবে অবশ্যই আগামীতে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা ও সচেতনতাও কামনা করছি। যে ব্যবস্থা নেয়া হবে আশা করি তাতে সফলতা আসবে।

সামনের পরীক্ষায় প্রশফাঁস রোধে এখনই তৎপরতা শুরু হয়েছে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এক মাস পরে আমাদের এইটএসসি পরীক্ষা শুরু হবে আমরা সে ব্যাপারে জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছি। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব গোয়েন্দা সংস্থা সবাইকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। পাহারা দিয়ে প্রশ্নফাঁস রোধ সম্ভব নয় এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

‘শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারই পারে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে’ শীর্ষক এই বিতর্ক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি রোধে শিক্ষার সাথে আইনের শাসন জরুরি। এ দুয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে পারলেই দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব।

তিনি বলেন, শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং এর প্রয়োগ ব্যতিত দুর্নীতি রোধ সম্ভব নয়।

প্রচলিত শিক্ষার মাধ্যমে তা সম্ভব নয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের শিক্ষার মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি- ‘তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক, উন্নত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা’। আমাদের দেশে প্রচলিত ও গতানুগতিক শিক্ষা এবং সেই শিক্ষার্থীদের জন্য যে ব্যবস্থা ও সুযোগ গুণগত মৌলিক পরিবর্তন ছাড়া সম্ভব নয়। এজন্য বর্তমান যুগের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিশ্বমানের শিক্ষা প্রয়োজন।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম ও এটিএন বাংলার উপদেষ্টা নওয়াজীশ আলী খান।

ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস সম্ভব হবে এমন পথে আগাতে চান জানিয়ে শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন বলেন, প্রশ্নফাঁস নিয়ে আমরা দোষারোপ করা ছাড়া কোনো পরামর্শ আমরা পাইনি। আমরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। সব নাগরিকেরই দায়িত্ব আছে প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে কাজ করা। তবে যে পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরি এবং বণ্টন হচ্ছে তাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না তা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। সংস্কারের মাধ্যমে আমরা এমন একটা পথে যেতে চাই সে পথে প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, পরীক্ষায় পাশের হার বাড়লেও শিক্ষার গুণগত মান ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁস, কোচিং নির্ভরতা, মানসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব, অবকাঠামোগত দুর্বলতাসহ নানাবিধ কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা এখনও কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফলাফলকেন্দ্রিক শিক্ষার কারণে একশ্রেণির শিক্ষক ও অভিভাবকরা আজ মূল্যবোধ বিবর্জিত উপায়ে শিক্ষার্থীকে প্রভাবিত করছে। যখন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় প্রশ্ন ফাঁসের অর্থ যোগানের জন্য অভিভাবকরা চাঁদা তুলে তহবিল গঠন করছে, তখন লজ্জায় আমাদের মাথা নত হয়ে আসে। আবার যে শিক্ষক নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা, সেই শিক্ষকই যদি প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত থাকে, তখন মনে হয় আমাদের গণতন্ত্র, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের ঘাটতি রয়েছে।

এর আগে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বরিশালের বাবুগঞ্জের রাশেদ খান মেনন মডেল মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়। রানার আপ হয় সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরের ইসহাকপুর পাবলিক হাই স্কুল। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয় বিপক্ষ দল ইসহাকপুর পাবলিক হাই স্কুলের দলনেতা শরীফা জাহান।

এবারে এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সারাদেশের মোট ৮৮০টি স্কুলের ১৭ হাজার ৬০০ বিতার্কিক অংশগ্রহণ করেছে।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার হিসেবে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেটসহ চ্যাম্পিয়ন দলকে নগদ ৩০ হাজার, রানার আপ দলকে ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

গত নয় বছরে সারা দেশের ১৬ হাজার ৫শ’ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ ২০ হাজার বিতার্কিক এই ‘বিতর্ক বিকাশ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।

Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



প্রকাশক ও সম্পাদক: ড. আবু ইউসুফ সেলিম (০১৭১৭৬৭২৮৭৪)
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: নুরে ইসলাম মিলন (০১৭১২৭৮৭৯৮৫)
বার্তা সম্পাদক : ফাহমিদা আফরীন
বার্তা কক্ষঃ ০১৭৮৯০৮১২৭৬

ভুবন মোহন পার্কের পার্শ্বে, সাহেব বাজার, রাজশাহী।
Email : upochar.news@gmail.com
www.dailyupochar.com
https://www.facebook.com/pg/DailyUpochar

Design & Developed BY zahidit.com