রাজশাহী,,

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাদ্দামের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন

মিথ্যে অপহরন মামলায় দুই যুবক দিন কাটাচ্ছে কারাগারে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত সাদ্দামের পরিবারের করা মিথ্যে অপহরন মামলায় নয়ন আলী ও তুষার আলী নামের দুই যুবক কারাগারে দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নয়ন গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের জশৈইল গ্রামের ইসমাইল আলীর ছেলে এবং একই গ্রামের একরাম আলীর ছেলে তুষার আলী। প্রায় একমাস যাবত মিথ্যে মামলার দায়ে এই দুই যুবকের দিন কাটছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারে। অনুসন্ধানে ও সরেজমিনে এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে বিবিষণ বিওপি সীমান্তে বরাবরের মত চোরাই পথে জশৈইল বিবিষণ গ্রামের ১২/১৩ জনের একটি দল রাত ৩টার দিকে ভারতীয় গরু আনতে যায়। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করে মো. মাসুম(১৯), মো. তালেব(২২) ও মো. রবিউল(২০) নামের তিন যুবককে আটক করে বিএসএফ। বর্তমানে তারা ভারতের কারাগারে বন্দি রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তাদের পরিবার। বাকিরা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরিয়ে পালিয়ে আসলেও ঐ দলে থাকা আবু তালেবের ছেলে মো. সাদ্দাম মিয়া ফিরে না আসাই ও সন্ধান না পাওয়ায় তার পরিবারে চলে কান্নার রোল।

ঘটনার কিছুক্ষণ পরে এলাকার কেউ কেউ বলে সাদ্দামের লাশ নাকি নদীতে ভাসতে দেখা গেছে। গ্রামের অনেকেই লাশ আনতে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যদের বাধার সম্মখীন হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান, রাধানগর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান নুহু। তিনি আরও জানান, সাদ্দামের সাথে থাকা যুবকগুলোর কাছ থেকে শুনেছি সাদ্দাম বিএসএফ’র গুলিতে মারা গেছেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার তিন দিন পর ১৯ সেপ্টেম্বর সাদ্দামের স্ত্রী তাজরিন বেগম বাদী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিজ্ঞ আমলী আদালত (ঘ) অঞ্চলে বিবিষণ গ্রামের নয়ন, স্বপন, তুষার, ইসমাইল, বাবু, আকতারুল সহ মোট ৬ জনকে আসামী করে একটি অপহরন মামলা (২৮৮/১৭ গোমঃ) দায়ের করে। মামলার ৬ জন আসামির মধ্যে একই পরিবারের রয়েছে তিন জন, জশৈইল গ্রামের ইসমাইল এবং তার ছেলে নয়ন ও স্বপন। মামলা চলার কিছুদিন পর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সাদ্দামের অবর্তমানে থাকা তার অসহায় পরিবারকে কিছু অর্থ দিয়ে বাদী ও আসামী উভয় পক্ষের মীমাংসা করে দেয় এবং মামলা প্রত্যাহার করে নেয় সাদ্দামের স্ত্রী বাদী তাজরিন বেগম।

কিন্তু হঠাৎ আবারো ১ মাস ১৯ দিন পর ৮ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে সাদ্দামের পিতা আবু তালেব বাদী হয়ে পূর্বের এজাহার দিয়ে ঐ ৬জনকেই আসামী করে পুনরায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত (ঘ) অঞ্চলে (৩৫৩ পি/১৭ গোমঃ) মামলা দায়ের করে। আর এই মামলার প্রেক্ষিতে নয়ন আলী ও তুষার আলী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন । মীমাংসা হওয়ার প্রায় দেড় মাস পরে আবারো কেন মামলা করা হলো এ বিষয়ে জানতে কথা হয় রাধানগর ইউপি’র বর্তমান চেয়ারম্যান মামুনর রশিদ এর সাথে। তিনি বলেন, এটি একটি ষড়যন্ত্রমুলক ঘটনা ও মিথ্যে মামলা। কে বা কারা সাদ্দামের পরিবারকে দিয়ে গ্রামের অসহায় এ লোকগুলোকে হয়রানি করাচ্ছে। এলাকার সকলেই জানে সাদ্দাম সহ এলাকার অনেক যুবক টাকার লোভে দীর্ঘদিন যাবত চোরাই পথে গরু আনতে যেত। আর সাদ্দাম গরু আনতে গিয়েই নিখোঁজ হয়েছে অথবা মারা গেছে। ঘটনাটি মীমাংসা হওয়ার পরও এসব মিথ্যে মামলা মোকর্দমা করে শুধু শুধু হয়রানি করছে বলে তিনি জানান।

তবে সাদ্দাম যে অবৈধ্য পথে গরু আনার সাথে জড়িত ছিল তা পরিষ্কার হয়েছে সাদ্দামের বিরুদ্ধে বিবিষণ বিওপি’র করা দুটি মামলা থেকে। গত ৮ জুলাই ২০১৭ তারিখের ১২ নং মামলার ১৬ নং আসামী হিসেবে চিহ্নিত মো. সাদ্দাম মিয়া এবং ৪ আগস্ট ২০১৭ তারিখের ২ নং মামলার ১১ নং আসামীও তিনি। এ বিষয়ে জশৈইল বিবিষণ গ্রামের আলহাজ্ব মঞ্জুর বিশ্বাস, জামাল উদ্দিন, বদিউজ্জামান, মিজানুর রহমান, জিয়াউর রহমানসহ অনেকের কাছে জানতে চাইলে সকলেই বলেন সাদ্দাম সহ ১২/১৩ জন মিলে সীমান্তে গরু আনতে গিয়ে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হয়েছে এবং ৩জন ভারতের কারাগারে আছে। এছাড়াও কথা হয় ভারতের কারাগারে বন্দি থাকা জশৈইল গ্রামের মাসুমের পিতা আব্দুস সাত্তারের সাথে। তার কন্ঠেও শোনা যায় একই সুর।

Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



প্রকাশক ও সম্পাদক: ড. আবু ইউসুফ সেলিম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: নুরে ইসলাম মিলন
বার্তা সম্পাদক : ফাহমিদা আফরীণ
প্রধান প্রতিবেদক: এস.এম.আব্দুল কাজিম

মিয়াপাড়া কেজি স্কুলের উত্তরে, রাজশাহী।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোবাইল ০১৭১২-৭৮৭৯৮৫
বার্তা কক্ষ:- অফিস ০৭২১-৭৭২৬০৬
মোবাইল:- ০১৭১৯-৯৩২৮৯৯
Email : upochar.news@gmail.com
www.dailyupochar.com
https://www.facebook.com/pg/DailyUpochar

Design & Developed BY