রাজশাহী,,

রাজশাহী জেলায় ১ লাখ ৯৩ হাজার মেট্রিক টন আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

নিজস্ব প্রতিনিধি: এ বছর রাজশাহী জেলায় আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৭৯ মেট্রিক টন। জেলার নয়টি উপজেলা ও রাজশাহী মহানগরীর দুটি থানা এলাকার আবাদি জমিতে এ ধান উৎপাদন হবে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। আবহাওয়া অনুকুল ও ঘন ঘন বৃষ্টি হওয়ায় এবার তেমন আমন ধানের ক্ষতি হয়নি। তবে জেলার কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দেওয়ায় অনেক জমির ধান নষ্ট হয়েছি। নষ্ট হওয়া ফসলি জমি বাদ দিয়েই এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলন ও ভাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ধানের শিষ ফোটা শুরু করেছে। আর কিছু দিনের মধ্যেই ধাণে পাক ধরতে শুরু করবে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ সালে রাজশাহী মহানরের দুটি থানা ও জেলার নয়টি থানায় রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭০ হাজার ২২৪ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার থেকেও ১ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে বেশি আমন ধান চাষ হয়েছে। তবে বন্যাসহ অন্যান্য কারণে ২ হাজার ৫ শত ৭৩ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। আর এ জমি থেকেই ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৭৯ মেট্রিন টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ২৫ জাতের ধান রোপন করা হয়েছে। গত ২০১৬-১৭ সালে ৭৫ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়। এরমধ্যে পবা উপজেলায় ৮ হাজার ৬৬২ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপন করা হয়েছে, তানোরে ২১ হাজার ১৪০ হেক্টর, মোহনপুর ১ হাজার ১০ হেক্টর, বাগমারা ৩২৫ হেক্টর, দুর্গাপুর ৪ হাজার ৬৫০ হেক্টর, পুঠিয়া ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর, গোদাগাড়ী ২৪ হাজার ৩৯০ হেক্টর, চারঘাট ৪ হাজার ৬০ হেক্টর, বাঘা ৬৪৫ হেক্টর, রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানায় ২২ হেক্টর ও বোয়ালিয়া থানা এলাকায় ১০ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় কম জমিতে আবাদ হয়েছে। কারণ কয়েকটি জেলায় ধান বাদ দিয়ে অন্য কিছু চাষের চেষ্টা করছেন কৃষকরা। ধানের থেকেই অন্য ফসল চাষ করে লাভবান হওয়ার কথা মনে করছেন কৃষকরা। গোদাগাড়ী উপজেলাতে অনেক আবাদি জমিতে পেয়ারা চাষ করছেন কৃষক। পেয়ারাসহ অন্যান্য ফসলও ফলানোর চেষ্টা করছেন তারা। এ দিকে, বাগমারা উপজেলাতেও আমন ধান তুলনামুলক হারে অনেক কম রোপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বড় উপজেলা হওয়ার পরেও এখানে খুব বেশি আমন ধান রোপন করা হয়নি। বন্যা ছাড়াও এ বছর ধান উৎপাদনে জেলার অন্য কয়েকটি উপজেলার কৃষকরা অনুকুল পরিবেশ বলেই মনে করছেন। কারণ এ বছর সময়মত বৃষ্টি হয়েছে। তবে ধানে পোকার আক্রমণ থেকে ধান বাঁচাতে ঘন ঘন বিষ প্রয়োগ করতে হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। ঘন ঘন বিষ দেওয়ার ফলে বেশি খরচ হয়েছে বলে দাবি করছেন কৃষকরা। ধান উৎপাদনের পর কাঙ্খিত দাম না পেয়ে ধান চাষে অনেক চাষি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। কৃষকরা বলছেন, সার বিষের দাম যে হারে বাড়ছে সেই হারে ধানের দাম বাড়েনি। তাই ধান ঘরে তুলে ভাল দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখ দেখতে হয় তাদের। তানোর উপজেলার আব্দুল্লাহ নামের এক কৃষক বলেন, এবার আমন ধান চাষ করতে গিয়ে মৌসুমের শুরুর দিকে সেচ দিতে হলেও পরে আর সেচ দিতে হয়নি। প্রাকৃতিক বৃষ্টিতে ধান হয়েছে। তবে পোকার আক্রমন থেকে ধান বাঁচাতে ঘন ঘন বিষ প্রয়োগ করতে হয়েছে। তাই খরচও বেশি হয়েছে। কাঙ্খিত দাম পাওয়ার আশা করে বলেন, এত কষ্ট করে ধান উৎপাদনের পরে যদি ভাল দাম না পাওয়া যায় তাহলে কেমন করে হবে? চাষীদের তো ধানের উপরই নির্ভরশীল হতে হয়। আরেক কৃষক বলেন, ধান উৎপাদন করতে অনেক খরচ হয়। তাই ধানের ভাল দাম যাতে পাওয়া যায় সেই ব্যবস্থা করার জন্য তিনি সরকারের কাছে আহবান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী খবর ২৪ ঘণ্টাকে বলেন, রাজশাহীতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন ধান রোপণ হয়েছে। ভাল ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্যায় কিছু জমির ধান নষ্ট হয়ে গেলেও তা বাদ দিয়ে ভাল ধান হয়েছে। কৃষকরা ভাল দামও পাবেন বলে আশা করেন তিনি।

Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



প্রকাশক ও সম্পাদক: ড. আবু ইউসুফ সেলিম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: নুরে ইসলাম মিলন
বার্তা সম্পাদক : ফাহমিদা আফরীণ
প্রধান প্রতিবেদক: এস.এম.আব্দুল কাজিম
বিশেষ প্রতিবেদক: রেজাউল করীম

মিয়াপাড়া কেজি স্কুলের উত্তরে,রাজশাহী।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোবাইল ০১৭১২-৭৮৭৯৮৫
বার্তা কক্ষ:-অফিস ০৭২১-৭৭২৬০৬
মোবাইল:-০১৭১৯-৯৩২৮৯৯
Email : dailyupochar@gmail.com
www.dailyupochar.com

Design & Developed BY