রাজশাহী,,

জেলা কালচারাল অফিসারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

প্রবীন শিল্পিদের অপসারণ নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেকেই

বিশেষ প্রতিনিধি : রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসনিক কর্মকান্ড এবং প্রশিক্ষক ও বিভিন্ন বিভাগের বাদ্যযন্ত্র সহকারিদের বাধ্যতামূলক অপসারণ নিয়ে তৈরী হচ্ছে জটিলতা। অবাধ প্রবেশাধীকারে বাঁধা গ্রস্থ করা হচ্ছে অনেক প্রবীন শিল্পিদের বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে সিসি ক্যামেরা, অডিটরিয়ামের এসি ও ইন্সট্রুমেন্ট ক্রয় সংক্রান্ত নানা দিক নিয়েও। মেয়ে শিল্পিদের মেকাপ করানো নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। বর্তমান জেলা কালচারাল অফিসার আসাদুজ্জামান সরকারের স্বেচ্ছাপ্রনোদিত মনোভাব, বিদ্বেষমূলক আচোরণ ও স্বজনপ্রীতি মনোভাব নিয়েও অনেকেই অভিযোগ করছেন।

অস্বচ্ছল ও সুখ্যাতি সম্পন্ন প্রবীন শিল্পিদের শিল্পকলা একাডেমি ভবনে অপ্রাসঙ্গিক কারণ দেখিয়ে প্রবেশাধিকার ক্ষুণœ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে প্রবীন-নবীণ শিল্পী সমাজ ও একাধিক প্রশিক্ষক ও বাদ্যযন্ত্র সহকারি অভিযোগ করে বলেন, শিল্পকলা একাডেমি হলো নির্দিষ্ট কোন এলাকার সংস্কৃতি বিষয়ক সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান। দেশীয় সংস্কৃতিসহ স্থানীয় পর্যায়ের সংস্কৃতি নিয়ে বিশদভাবে চর্চার একটি উপযুক্ত স্থান। সেখানে মৌলিক অধিকারের ভিত্তিতেই স্থানীয় প্রবীন-নবীনসহ সকল শ্রেণীর কলাকুশলীদের প্রবেশাধীকার কিংবা অবাধ বিচরণের অধিকার থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্বরত কালচারাল অফিসার আসাদুজ্জামান সরকার যোগদানের পর থেকেই এই অধিকারের উপর অনেকটা শর্ত জুড়ে দিয়ে মুক্তমনা শিল্পিদের সাংস্কৃতিক অধিকারে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা তৈরী করছেন বলেও অভিযোগে উঠে এসেছে। অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, গত কয়েকদিন আগেও রাজশাহী শহরের একাধিক প্রবীন ও সুখ্যাতি সম্পন্ন কয়েকজন শিল্পিকে অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে একাডেমির প্রধান ফটক থেকেই ফিরিয়ে দেয়া হয় বর্তমান কালচারাল অফিসারের আদেশক্রমে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সূত্রমতে, বিগত সময়ে শিল্পকলা একাডেমিতে প্রতি বছর লিখিত ও অলিখিতভাবে ৮ টি বিভাগে সর্বমোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ জনের মতো। গেল বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২২৫ জন। কিন্তু চলতি বছরে সেটার সংখ্যা অনেকটা নিম্নমূখী।

বর্তমান কালচারাল অফিসারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও হিংসা-বিদ্বেষমূলক আচোরণের অভিযোগ উঠেছে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বেশ কয়েকজন প্রশিক্ষক ও সহকারিদের পক্ষ থেকে। নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ৫০ বছরের উর্দ্ধে যে সকল অভিজ্ঞ ও সুনামধন্য প্রশিক্ষক কিংবা সহকারি বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত ও দায়িত্বে আছেন মুখ দেখে দেখে তাদের অনেককেই বাধ্যতামূলকভাবে অপসারণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যাদের সাথে কালচারাল অফিসারের সম্পর্ক ভাল কিংবা যে সকল প্রশিক্ষক তার কথায় উঠেবসে শুধুমাত্র ঐ সকল ব্যক্তিদেরকে দায়িত্বে রেখে অন্যদের বাদ দিয়ে দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। অভিযোগে সূত্রে আরো জানাযায়, আক্রশ ও প্রতিহিংসাবশত বাধ্যতামূলক অপসারণ এর তালিকাতে নাম উঠেছে আরো বেশ কয়েকজনের। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো আবৃত্তি প্রশিক্ষক হাবিবুল্লাহ, তবলা সহকারি জিহাদুল ইসলাম তোতা ও এ.কে.এম নাকিব উদ্দীন এবং উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত প্রশিক্ষক সলোক হোসেন এদের মধ্যে অন্যতম। অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, শিল্পকলা একাডেমিতে প্রবীণ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিল্পি ও কলাকুশলিদের বাদ দিয়ে দিলে খুব স্বাভাবিক কারণেই কিছুটা ভাটা পরবে সংস্কৃতিক অঙ্গনে। যেটা কারই কাম্য নয়।

অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে একাডেমির সাধারণ নির্বাচন নিয়েও। ২০০৫ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত অলৌকিক কারণেই স্থগিত করে রাখা হয়েছে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাচন। এমনকি এ্যাডহোক কমিটি থাকা সত্বেও সেই কমিটির নেই চোঁখে পরার মতো তেমন কোন কার্যকারিতা। যার কারণে প্রায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে নানাবিধ জটিলতা। থমকে যাচ্ছে কাজের গতিশীলতা বলেও অভিযোগ সূত্রে উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিয়মান অডিটোরিয়ামের অভ্যন্তরিন বেশ কয়েকটি কাজ নিয়ে। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি থাকা সত্বেও অন্যকাউকে কোন কাজের দায়িত্ব না দিয়ে কালচারাল অফিসার আসাদুজ্জামান সরকার সার্বিক কাজ নিজেই দেখা শুনা করছেন বলেও জানাজায়। তথ্যসূত্রে আরো জানাযায়, কমিটির মধ্যে আছেন ঢাকাস্থ শিল্পকলা একাডেমির রাজশাহীর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামার উল্লাহ সরকার ও এস.এম শামীম আক্তার এবং অবশিষ্ট তিনজন রাজশাহীর কর্মকর্তা। অডিটোরিয়ামে এসি ও অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী সংযোজনের ক্ষেত্রে তিনি ঠিকাদারের সাথে আতাত করে নগদ অর্থ অনৈতিকভাবে খুব চতুরতার সাথে আতœসাৎ করছে বলেও অনেকে অভিযোগ তুলেছে। একাডেমি ভবনের জন্য ১৬ টি সিসি ক্যামেরা ক্রয়কল্পে তিন সদস্য বিশিষ্ট ক্রয় কমিটি থাকা সত্বেও কালচারাল অফিসার ক্রয় কমিটির কারো সাথে জরুরি সভা কিংবা মতবিনিময় না করে শুধুমাত্র সভাপতির সাথে আনুসঙ্গিক মিটিং করে টেন্ডার বিহীনভাবে শুধুমাত্র কোটেশনের উপর নির্ভর করে প্রথম ধাঁপে ৮ টি সিসি ক্যামেরা ক্রয় করেন। অবশিষ্ট ৮ টি সিসি ক্যামেরা ক্রয়ের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুধু হয়েছে।

একাডেমির শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেকরুম থাকা সত্বেও মহিলা কিংবা পুরুষ শিল্পিদের জন্য নেই কোন মেকাপম্যান। অভিযোগ আছে কালচারাল অফিসার আসাদুজ্জামান সরকার নিজ দায়িত্বে মহিলা শিল্পিদের মেকাপ করিয়ে থাকেন। অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, গত কয়েকদিন আগে মহিলা নাচের শিল্পিদের মেকাপ করার প্রয়োজন দেখা দিলে ভবনের দ্বিতীয় তলাতে ডিসি সাহেবের সংরক্ষিত রুমের তালা ভেঙ্গে ঐ দিন কালচারাল অফিসার নিজেই মহিলা শিল্পিদের মেকাপ করিয়ে দেন। বিষয়টি উক্ত একাডেমির সাথে সম্পৃক্ত অনেকের কাছেই অসামাজিক ও অতিরঞ্জিত বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ আছে ২০১৬ সালের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রবীণ শিল্পিদের অসম্মান করানোর বিষয়েও এবং অভিযোগ উঠেছে কালচারাল অফিসারের খামখেয়ালিপনা নিয়েও , শিল্পি মঞ্জুশ্রী রায়কে চেক প্রদান কালে চেকের পাতাতে নামের সাথে মোঃ সংযুক্ত করাতে চেক ডিসঅনার হয়ে ফেরত আসে।

রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমির জেলা কালচারাল অফিসার আসাদুজ্জামান সরকারকে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো সম্পর্কে
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের প্রেরিত নোটিশের ৬ ধারার প্রেক্ষিতে ৫০ বছরের উর্দ্ধে কিছু প্রশিক্ষক ও বাদ্যযন্ত্র সহকারিকে বাধ্যতামূলক অপসারণ কিংবা বাদ দেবার যে সরকারি নোটিশ শিল্পকলার অনুকূলে প্রেরিত হয়েছে আমি শুধুমাত্র সেই মোতাবেক কার্যসম্পাদন করছি মাত্র। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে আনীত অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা ও বিভ্রান্তমূলক।

Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



প্রকাশক ও সম্পাদক: ড. আবু ইউসুফ সেলিম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: নুরে ইসলাম মিলন
বার্তা সম্পাদক : ফাহমিদা আফরীণ
প্রধান প্রতিবেদক: এস.এম.আব্দুল কাজিম

মিয়াপাড়া কেজি স্কুলের উত্তরে, রাজশাহী।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোবাইল ০১৭১২-৭৮৭৯৮৫
বার্তা কক্ষ:- অফিস ০৭২১-৭৭২৬০৬
মোবাইল:- ০১৭১৯-৯৩২৮৯৯
Email : upochar.news@gmail.com
www.dailyupochar.com
https://www.facebook.com/pg/DailyUpochar

Design & Developed BY