রাজশাহী,,

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড বৈষম্য

৩৪তম বিসিএস নন-ক্যাডারদের যোগদানে অনীহা

উপচার ডেস্ক : প্রায় চার বছর ধরে গ্রেড বৈষম্য নিরসন হয়নি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে। কাগজে-কলমে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদমর্যাদা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে, ৩৪তম বিসিএস নন-ক্যাডারদেরও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে আগের ১২তম গ্রেডে। এ কারণে কর্মরতদের মধ্যে ক্ষোভ, আর যোগদানের অপেক্ষায় থাকাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। ৩৪তম বিসিএসের নন-ক্যাডারদের অনেকেই প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানে অনীহা প্রকাশ করেছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এএফএম মঞ্জুর কাদির কে বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। রাতারাতি সবকিছু ঠিক করা যায় না। কর্মরতসহ নিয়োগ পেতে যাওয়া নন-ক্যাডারদের বিষয়ে বিবেচনা করেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যারা আরও ভালো সুযোগ পাবেন, তাদের তো জোর করে যোগদান করাতে পারবো না।’

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র এসএম ছায়িদ উল্লা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদমর্যাদায় উন্নীত করেন। কিন্তু গেজেটেড পদমর্যাদা অনুযায়ী, দশম গ্রেড বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে প্রশিক্ষণ ছাড়া প্রধান শিক্ষকরা ১২তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। আর যাদের প্রশিক্ষণ রয়েছে তাদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, সমমানের নিয়োগে মাধ্যমিকের শিক্ষকসহ অন্যরা বেতন পাচ্ছেন দশম গ্রেডে। দ্রুত এই বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন।’

তার দাবি, দ্বিতীয় গেজেটেড পদমর্যাদা ও ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এজন্য বিদ্যমান ১১তম গ্রেড (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) ও ১২তম গ্রেডকে (প্রশিক্ষণবিহীন) একত্র করে ১০ম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর করতে হবে। এছাড়া ১৯৯৪ সালের ১৯ ডিসেম্বরের কালো আইন (এসআরও নং ৩৫২-আইন/৯৪ প্রজ্ঞাপন) বাতিল করে প্রধান শিক্ষকদের উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে পদোন্নতির বিধান করতে হবে।’

প্রধান শিক্ষকের প্রায় ২০ হাজার শূন্য পদে জরুরিভাবে এ মাসে (অক্টোবরে) নিয়োগ দেওয়া হবে ৪৬৯ জনকে। এ লক্ষ্যে গত ২৮ সেপ্টেম্বর দেশের সব ইউনিয়নে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ কত তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মরত প্রধান শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা দিয়েই নন-ক্যাডরদের নিয়োগ দেওয়া হবে।

এতে হতাশা রয়েছে অনেক নন-ক্যাডারের। তারা জানিয়েছেন, সরকারি চাকরির বয়স থাকছে না। তাই বাধ্য হয়েই যোগ দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, যাদের সরকারি চাকরির বয়স আছে বা অন্য কোনও সুযোগ রয়েছে তারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করছেন না।

৩৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ছয় মাস দেরি হলেও নতুন নিয়োগবিধি করে মেধাবী এ প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া উচিত। নিয়োগের সময় ১২তম গ্রেড দিয়ে এক বা দুই বছর পরে দশম গ্রেড দেওয়া হলে আফসোস করবেন যোগ না দেওয়া মেধাবীরা। আর মন্ত্রণালয় কিছু মেধাবী শিক্ষক থেকেও বঞ্চিত হবে।’ দশম গ্রেড না দেওয়া হলেও পরিবার তাকে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক পদে যোগ দিতে আপত্তি করবে না বলে জানান তিনি।

৩৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার মঞ্জুরুল হক মনিরুল বলেন, ‘আমারচাকরির বয়স নেই। তারপরও পরিবার থেকে ১২তম গ্রেডে যোগ না দেওয়ার জন্য চাপ আসছে।’ অনেকেই এই চাকরিতে যোগ দেবেন না বলে জানান তিনি।

আব্দুল্লাহ আল মামুন, মানিরুলসহ অনেক নন-ক্যাডারই ১২তম গ্রেডে যোগদানে আগ্রহী নন। যারা বর্তমানে ব্যাংকসহ ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন তাদের অনেকেই এই চাকরিতে যোগদান করবেন না বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ১০ আগস্ট বিসিএস পরীক্ষায় পদ স্বল্পতার কারণে প্রথম শ্রেণির পদে সুপারিশপ্রাপ্ত নন এমন প্রার্থীদের নন-ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগ দিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে সুপারিশ করে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। তবে ২০১৩ সালের ‘বিতর্কিত’ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালার আলোকে নন-ক্যাডারদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ১২তম গ্রেডে নিয়োগ দিচ্ছে মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে, গত বছর ১৪ আগস্ট বিসিএস পরীক্ষায় পদ স্বল্পতার কারণে প্রথম শ্রেণির পদে সুপারিশপ্রাপ্ত নন এমন প্রার্থীদের নন-ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগ দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে সুপারিশ করে পিএসসি। এর আলোকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহাকারী শিক্ষক হিসেবে দশম গ্রেডে নিয়োগ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘বিতর্কিত’ নিয়োগ বিধির কারণে একই যোগ্যতা থাকার পরও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। কর্মরত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, নিয়োগবিধি সংশোধন না করায় তারা গত চার বছর ধরেই বৈষম্যের শিকার হচ্ছি।

সুত্র :- বাংলা ট্রিবিউন

Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



প্রকাশক ও সম্পাদক: ড. আবু ইউসুফ সেলিম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: নুরে ইসলাম মিলন
বার্তা সম্পাদক : ফাহমিদা আফরীণ
প্রধান প্রতিবেদক: এস.এম.আব্দুল কাজিম
বিশেষ প্রতিবেদক: রেজাউল করীম

মিয়াপাড়া কেজি স্কুলের উত্তরে,রাজশাহী।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোবাইল ০১৭১২-৭৮৭৯৮৫
বার্তা কক্ষ:-অফিস ০৭২১-৭৭২৬০৬
মোবাইল:-০১৭১৯-৯৩২৮৯৯
Email : dailyupochar@gmail.com
www.dailyupochar.com

Design & Developed BY