,


‘১৬ ডিসেম্বরে রাজাকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ’

উপচার ডেস্ক : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, চলতি বছর মহান বিজয় দিবসের আগেই রাজাকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে প্রকাশ করা হবে। এরই মধ্যে রাজাকারদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। সবার কাছ থেকে তালিকা নিয়ে ১৬ ডিসেম্বরের আগেই রাজাকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে। এছাড়া পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের ভূমিকা নিয়ে লেখাও সংযুক্ত করা হবে।

শুক্রবার (৯ নভেম্বর) সকালে গাজীপুরের রথখোলায় বঙ্গতাজ মিলনায়তনে ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপকমিটি এই সভার আয়োজন করে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান মো. রশিদুল আলম, সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা কাজী মোজাম্মেল হক, গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইকবাল হোসেন সবুজসহ অন্যরা।

মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথি ও উদ্বোধকের বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আগামি জানুয়ারিতে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। তারা কী কী সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা পরিচয়পত্রের পেছনে লেখা থাকবে। আগামী জানুয়ারিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সব কবরও একই ডিজাইনে করে দেওয়ার প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা নিয়ে অসন্তোষ আছে। এটি নিয়েও কাজ চলছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বছর ২০২০ সালে সে অসন্তোষ দূর করা হবে। মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ১৫ হাজার দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধাকে ঘর-বাড়িও করে দেওয়া হবে। এগুলোর প্রতিটি মূল্য হবে ১৫ লাখ টাকা।

চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রসঙ্গে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ এই মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির জন্য আমাদের প্রিয় সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগকে ছাড় দেওয়া হয়নি। জাতির কাছে এই মেসেজ পরিষ্কার— ঘরের লোকদের আমরা প্রথমে শায়েস্তা করেছি। সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত— অর্থাৎ সরকারের অধীন সব প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ীসহ প্রতিটি স্তরে যারাই দুর্নীতিতে জড়িত, একে একে তাদের সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কয়েকটি রাজনৈতিক দল পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ নিয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী। তখন যুদ্ধরত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করতে রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়েছিল। আনসার বাহিনীকে এই বাহিনীতে একীভূত করা হয়েছিল। প্রথমে এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে গঠিত শান্তি কমিটির অধীনে থাকলেও পরে একে আধা সামরিক বাহিনীর স্বীকৃতি দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার।

একই রকম আধা সামরিক বাহিনী ছিল আল বদর বাহিনী ও আল শামস বাহিনী। তবে স্বাধীনতাবিরোধী এই বাহিনীগুলোকে সাধারণ অর্থে রাজাকার বাহিনী হিসেবেই পরিচিত বাংলাদেশে।প্রায় এক দশক আগে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর রাজাকারের তালিকা তৈরির দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

২০১২ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছিলেন, রাজাকারের কোনো তালিকা সরকারের কাছে নেই।

তবে তিনি বলেছিলেন, ১৯৭১ সালের খুলনায় আনসার হেডকোয়ার্টার্সে পাওয়া তালিকায় ৩০ হাজারের বেশি রাজাকারের তথ্য মিলেছিল। ওই তালিকাটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রয়েছে।

মে মাসে সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা যায়, কমিটির আগের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগে সংরক্ষিত রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনকারী রাজাকারদের তালিকা সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়।

রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি ও সংগঠন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্যদের দেশদ্রোহী আখ্যায়িত করে তাদের আসনগুলো অবৈধভাগে শূন্য ঘোষণা করে তাদের স্থলে যাদেরকে সদস্য করা হয়েছিল, তাদের নামগুলো স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রস্তুত ও সংরক্ষণে আইন সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে ওই কার্যপত্রে দেখা যায়।

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১