,


সিএনজি এবং অটোচার্জার চালকদের দৌরাত্ম্য

অভিনব কায়দায় জিম্মি করে যাত্রিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়!

মাহবুবুজ্জামান সেতু,মান্দা প্রতিনিধি : নওগাঁর প্রতিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক এবং মহাসড়ক গুলোতে নিয়ম নীতির কোনো তোয়াক্কা না করে যাত্রিদেরকে জিম্মি করে অভিনব কায়দায় অতিরিক্ত ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে কিছু অসাধু সিএনজি এবং অটোচার্জার চালক।

যেনো প্রতিবাদ করার ভাষা নেই। আর তাদের এহেন ন্যাক্কারজক, অমানবিক কর্মকান্ডের জন্য প্রতিবাদ করতে গেলে হয় বেইজ্জতি হতে হবে আর না হয় ওদের কাছে লাঞ্ছিত হতে হবে। এর ব্যাত্বয় কিছু ঘটবে বলে মনে হয় না। কেননা, এটির চরম বাস্তবতা আছে।

একসময় রাস্তায় চলাচলের জন্য তেমন কোনো একটা গাড়িও ছিলো না। আর এখন মানুষ অনেক অাধুনিক হয়ে গেছে, মানুষ এখন আর পায়ে হেটে কোথাও যায় না। দুই মিনিটের রাস্তা হলেও তারা কোনো একটা গাড়িতে চড়ে যেতে চায়।

একসময় মানুষ পায়ে হেটে দূরদূরান্তে সফর করতো। পরবর্তিতে গরুর গাড়ির প্রচলন শুরু হয়। বর্তমানে গরুর গাড়ি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। গ্রামের মেঠোপথে অার চোখে পড়ে না গরুর গাড়ি। গরুর গাড়ির পরে গ্রামাঞ্চলে পায়ে ঠ্যালা বা পেডেল করা ভ্যান গাড়ির প্রচলন শুরু হয় । এর কিছুদিন যেতে না যেতেই, ভুটভুটি,নসিমন,করিমন ইত্যাদি গাড়ির দেখা মিলতে লাগলো রাস্তায় রাস্তায়।

সেইসাথে হারাতে বসতে লাগলো গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ির প্রচলন। পর্যায়ক্রমে পায়ে ঠ্যালা পেডেল করা ভ্যান এবং বিশ্রী, বিকট শব্দ থেকে পরিত্রাণ পেতে শ্যালোম্যাশিন দিয়ে তৈরীকৃত ভুটভুটি, নসিমন,করিমনে লোকজন যাতায়াত না করে স্বাচ্ছন্দে,নির্বিঘ্নে,রিলাক্সমুডে চলাচল করতে ভ্যান,ভুটভুটি,নসিমন,করিমন এবং স্কুটার বেবীট্যাক্সির বিকল্প আরাম দায়কভাবে যাতায়াত করার জন্য মানুষ অটোচার্জার এবং সিএনজিতে চড়ে একস্থান থেকে আরেক স্থানে যাওয়া আসা শুরু করে। আর এই প্রচলন অদ্যবধি চলমান আছে।

আর পথচারীদের এই দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন অযুহাতে কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এবং নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা না টাঙ্গিয়ে তাদের ইচ্ছে মতো যাত্রিদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতিছে।

যা একেবারেই আইন বহির্ভূত। সাধারণ যাত্রিরা এর থেকে পরিত্রাণ পেতে চায়।

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিভাগীয় শহর থেকে মান্দা ফেরিঘাট প্রায় ৫০ কিলোমিটার রাস্তা। আর এই রাস্তায় বাস, সিএনজি, লেগুনা ইত্যাদি যেকোনো গাড়িতে দিন রাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে যেকোনো সময় আসতে চাইলে লিগ্যাল ভাড়া যা তাই দিয়ে গভীর রাতেও আসা যায়। অনেকসময় ১০-২০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। তবে এর থেকে বেশি না।

অথচ,নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসষ্ট্যান্ড থেকে মান্দার ফেরিঘাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার রাস্তার বেশ কয়েকটি মোড় আছে।যেমন, হাপানিয়া, চকগৌড়ি,নওহাটা, রানীপুকুর,বাবলাতলী,জলছত্র, বর্দ্দপুর,ভোলাবাজার, মজনুম্যাকার,চেয়ামম্যানের মোড়, জিরার মোড়, জ্যালাঘাটি, পঞ্চমীতলা,সতিহাট, নীলকুঠি, সবরিতলার মোড়,সাতবাড়িয়া তারপর ফেরিঘাট বাসট্যান্ড।

এতোগুলো মোড়ের মধ্যে, প্রতিটি মোড়ের দূরত্ব একটি মোড় হতে অন্য একটি মোড় প্রায় ২,৩,৪,৫ কিলোমিটার পরপর।

আর এসব একটি মোড় হতে অন্য একটি মোড়ের একটি নির্দ্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা থাকা উচিৎ।

অথচ, তা রেখে যাত্রিদের জিম্মি করে নিজেদের খেয়াল খুশিমতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে-যেনো দেখার কেউ নেই।

দিনের বেলায় বাসে চড়ে সতিহাট থেকে নওগাঁ বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ২৩ কিলোমিটার রাস্তা যাওয়ার নির্দ্দিষ্ট ভাড়া জনপ্রতি ৩০ টাকা নেয়া হয়। অনেক সময় এর থেকে একটু কমও নেয়া হয়। আর মান্দা ফেরিঘাট থেকে নওগাঁ ৩০ কিলোমিটার রাস্তায় বাসযোগে চলাচলের ভাড়া নেয়া হয় ৪০ টাকা।

সতিহাট থেকে নওহাটার দুরত্ত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার যার বাসের ভাড়া গুনতে ১৫ টাকা। আর অন্যান্য সকল গাড়ির ভাড়া ২০ টাকা। অথচ, সতিহাট থেকে বাবলাতলী ৭ কিলোমিটার রাস্তার বাসের ভাড়া নেয় ৮ থেকে ১০ টাকা । আর অটোচার্জারের ভাড়া নেয়া হচ্ছে ইচ্ছেমত ১৫-২০ টাকা। ফেরিঘাট থেকে সতিহাটে ৭ কিলোমিটার রাস্তায় আসার পথেও একই অবস্থা। সারাদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাসের ভাড়া ৫,৭ বা ৮ টাকা নিতো।কিন্তু ইদানীং সকল বাস কর্তৃপক্ষ জনপ্রতি ভাড়া নিচ্ছে ১০ টাকা করে। অটোচার্জার এবং সিএনজিরও ভাড়া একই।

সারাদিন ঠিকই থাকে, সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গাড়ির চালকদের রুপটা চেঞ্জ হয়ে যায়। তারা যাত্রিদের জিম্মিকরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে এতোটুকুওট দ্বিধাবোধ করেনা।

“সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত যতো গভীর হয়, ভাড়ার পরিমানটা ততোই বাড়তে থাকে। বিশেষ করে,লাষ্ট টিপের গাড়িটা বাসস্ট্যান্ডে থেকে ছেড়ে আসার পরই শুরু হয়ে যায় ওইসব অসাধু,কুচক্রী গাড়ি চলকদের হীনমনমানষিকতার বহি:প্রকাশ।

লাষ্ট টিপের বাস মিস করলেই বিপদ। যা ভাড়া তার থেকে দ্বিগুন,তিনগুণ ভাড়া আদায় করে থাকেন ওইসব বেয়াদব গাড়িচালক। নওগাঁ বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে নওহাটা আসার ভাড়া ১০ টাকা থেকে হয় ২০,৩০,৫০ টাকা। নওহাটা থেকে সতিহাট আসার ভাড়া হয় ১৫ টাকা। তা না হয়ে রাতের ভাড়া হয় দ্বিগুন। আবার, নওগাঁ থেকে সতিহাটের ভাড়া ৩০ টাকা থেকে হয় ৬০,৭০,৮০,১০০ টাকা।

এসব আচরন সিন্ডিকেট ছাড়া আর কিছু নয়। এর একটা বিহীত হওয়া দরকার। বিয়য়টি বিবেচনায় এনে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে। তা না হলে এসব চোগলখোর ড্রাইভারদের দৌরাত্ম্য দিনদিন বেড়েই যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১