,


লালপুর গণহত্যা দিবস আজ

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের লালপুর উপজেলার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল গণহত্যা দিবস আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক হানাদার বাহিনী সুগার মিল অবরুদ্ধ করে ৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শতাধিক লোককে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে। স্বাধীনতার পর গণহত্যার নীরব সাক্ষী ঘটনাস্থলের পুকুরটির নামকরণ করা হয় ‘শহিদ সাগর’। লালপুরবাসীর জন্য এটি শোকাবহ দিন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সারাদেশে উৎপাদন যন্ত্র অচল থাকলেও হানাদার বাহিনীর নাটোর ক্যাম্পের মেজর শেরওয়ানি খানের আশ্বাসে এলাকার আখচাষিদের স্বার্থ বিবেচনা করে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের তৎকালীন প্রশাসক লে. জেনারেল (অব.) আনোয়ারুল আজিম মিলের উৎপাদন অব্যাহত রাখেন। কিন্তু মেজর শেরওয়ানি তার ওয়াদার বরখেলাপ করে।
বর্বর পাক বাহিনী মিলের সবগুলো গেটে তালা লাগিয়ে অবরুদ্ধ করে অবাঙালিদের যোগসাজশে শতাধিক বাঙালিকে শনাক্ত করে মিলের ১ নং গেট সংলগ্ন পুকুর ঘাটে নিয়ে যায়। তাদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করা হয়। পরে লাশগুলো পুকুরে ফেলে দেয়।

ওই দিনই হানাদার বাহিনী গোলাপপুর বাজার এলাকায় আরও ৬ জনকে গুলি করে হত্যা করে। সেদিন মিলের হত্যাযজ্ঞে কোনো অবাঙালি যাতে মারা না পড়ে সে জন্য তাদের সবার মাথায় সাদা রুমাল বাঁধা ছিল।

পাক হানাদার বাহিনীর লোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞের নীরব সাক্ষী বুলেটবিদ্ধ হয়ে লাশের স্তুপের নিচে চাপা পড়ে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান কয়েকজন।

ওই গণহত্যায় শহিদদের কয়েকজন হলেন, লে. জেনারেল আনোয়ারুল আজিম (অব.), শহিদুল্লাহ, গোলজার হোসেন তালুকদার, সাইফুদ্দিন আহমদ, আবুল হোসেন, আবদুর রউফ, মান্নান ভূইয়া, গোলাম কিবরিয়া, নূরুল হক, আজহার আলী, মকবুল হোসেন, আবুল বাসার, মনসুর, রহমান, সাজেদুর রহমান, ইসমাইল হোসেন, হাবিবুর রহমান, মোসাদ্দারুল হক, মোকসেদুল আলম, আবদুর রহমান আমিন, মুহাম্মদ আলী, মোজাম্মেল হক, আব্দুল মান্নান, ফিরোজ মিয়া, আক্তার উদ্দিন, সোহরাব আলী, আনোয়ারুল ইসলাম, পরেশ উল্লাহ, আবদুল মান্নান, কামাল উদ্দিন, আবুল কাসেম, আব্দুর রব, শামসুল হক, আব্দুল মজিদ, আবুল কালাম, নজরুল ইসলাম, আয়েজ উদ্দিন, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল, মোসলেম উদ্দিন, জহির উদ্দিন, মুহাম্মদ আলী প্রমুখ। এছাড়া অনেক শহিদের নাম পাওয়া যায়নি।

সেদিন যারা সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন তারা হলেন, মেহমান আলী, নওসাদ আলী, খন্দকার ইমাদ উদ্দিন আহম্মেদ, আব্দুল জলিল সিকদার, তোফাজ্জল হোসেন, আজের আলী প্রমুখ।
শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহিদ সাগর চত্বরে স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর নির্মিত হয়েছে। ১৯৭৩ সালের ৫ মে মিলের প্রশাসক লে. জেনারেল আনোয়ারুল আজিমের স্ত্রী বেগম শামসুন্নাহার শহিদ সাগর চত্বরে স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করেন। তার নামানুসারে গোপালপুর রেল স্টেশনের নামকরণ হয়েছে আজিমনগর স্টেশন।

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১