,


রেলে আরো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রয়োজন

বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি সুপ্রাচীন জনবান্ধব পরিবহন। মূলত সেবা মুলক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই বারবার বিবেচিত হয়ে আসছে। সেই কারনে লোকসানের কথা চিন্তা না করে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে রেলের পরিধি বাড়ছে। রেললাইন বসানো হবে এমন চিন্তা যে সব অঞ্চলের লোকজন কখনো করেননি অথচ তারা আজ রেলের সুবিধা পাচ্ছেন এবং অনেকেই সেবা পেতে চলেছেন। এমন একটা সেবা ধর্মী প্রতিষ্ঠান আর কত লোকসানের মুখে পড়বে। কেন কলংকের দাগ থেকে মুক্ত হবেনা রেলওয়ে? এটা সকলকে ভাবতে হবে। মূলত রেলের এক শ্রেনীর কর্মকর্তার চুরি ও দুর্নীতির কারনেই লোকসানের বোঝা রেলওয়েকেই বইতে হয়। প্রতি বছর যতো টাকার টেন্ডার হয় তার অর্ধেক টাকার কাজ হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল চুরি করা হয় পাওয়ার কার ও লোকো থেকে। বিনা ভাড়ায় যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করিয়ে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করা এবং মালামাল ক্রয়ের নামে পুকুর চুরি রেলকে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছে। এত সব কুকীর্তির মধ্যে কিছু ভালো কর্মকর্তা এখনো আছেন বলে হয়তো রেলওয়ে টিকে আছে। আর সেই কর্মকর্তাদের একজন হলেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার খোন্দকার শহিদুল ইসলাম। রাজশাহী প্রকৌশল কলেজ (বর্তমানে রুয়েট) থেকে ইলেক্টিক ও ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। ১৯৮২ সালের বিশেষ বি সি এস ক্যাডার এই কর্মকর্তা বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব পদ মর্যাদার রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার। তিনি রাজশাহীতে যোগদানের পর থেকেই পাকশী ও লালমনিরহাট রেল বিভাগের প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়ন ধারা ত্বরান্বিত হয়েছে। যাত্রীদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে, গতিশীল হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম। তিনি আকস্মিক ভাবে বিভিন্ন ট্রেন, স্টেশন, ইয়ার্ড কিংবা লোকোশেড যেখানেই পরিদর্শনে যান সেখানেই সৃজনশীল দৃঢ় পদক্ষেপ নেন যা অনুকরণীয়। এক সময়ে রেলে বেশ কিছু কর্মকর্তা কাজ করতেন যাদের নাম আজও পুরাতন রেলকর্মীদের মূখে শোনা যায়। যেমন আমানুল ইসলাম চৌধুরী, এম এ মুন্নাফ, আসজাদ আলী, করিমুশ্মান, আব্দুল আলীম, এস কে হাবিবুল্লাহ, এম টি হোসেন, সাঈদ হোসেন, এম এ রহিম,আব্দুল মতিন প্রমুখ।এই সব সৎ ও নিবেদিত কর্মকর্তাদের সাথে যোগ হয়েছে জেনারেল ম্যানেজার খোন্দকার শহিদুল ইসলামের নাম। চাকুরীর শেষ প্রান্তে এসেও তিনি দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি অবিচল পেশাদারিত্বের অনন্য স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। একইভাবে পশ্চিম রেলের আরেক কর্মকর্তা চীফ সিগনাল এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার (সি এস টি ই) অসিম কুমার তালুকদার দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি বুয়েট থেকে ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। পরবর্তীতে দশম বি সি এস এর মাধ্যমে এ সি এস টি ই পদে রেলে যোগদান করেন। তিনি দায়িত্বে সবসময় অবিচল থাকার চেষ্টা করেন। তিনি যখন ট্রেনে বিশেষ চেকিং কার্যক্রম তত্বাবধান করেন তখন বিনা টিকিটে ভ্রমণরত কাউকেই ছাড় দেননা। অতি সম্প্রতি তিনি বিনা টিকিটে ভ্রমণরত একজন অবসরপ্রাপ্ত রেল কর্মকর্তা এবং সিনিয়র শ্রমিক লীগ নেতাকে জরিমানা করেছেন যা বিরল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১