,


রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের লোকসানি শাখা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

উপচার ডেস্ক : দিন দিন রাষ্ট্রায়ত্ত বা সরকারি ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কোনোভাবেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। বরং কোনো কোনো ব্যাংকে তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

এ নিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত ঋণ অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আর সরকারি ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন ধরেই লোকসানের এ ঘানি টেনে যাচ্ছে। বারবার তাগিদ দিয়েও কাক্সিক্ষত হারে লোকসানি শাখার সংখ্যা কমানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারি ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত ২০১১ সালে সরকারি ৬টি ব্যাংকের লোকসানি শাখা ছিল ১৫৯টি।

২০১২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯১টি। আর ২০১৩ সালে ১৭৩টি, ২০১৪ সালে ছিল ১৬৮টি। মাঝে কিছুদিন ওঠানামা করলেও ধীরে ধীরে লোকসানি শাখা বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালে ৬ ব্যাংকের লোকসানে পড়ে ২২৫টি শাখা। তবে ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি শাখা লোকসানে পড়ে। ওই বছরটিতে ৬ ব্যাংকের লোকসানে পড়ে ৪৯৩টি শাখা। এরপর কিছুটা কমে ২০১৭ সালে ব্যাংকগুলোর লোকসানি শাখা ছিল ৩৬৪টি।
২০১৮ সালে সেটি আরো কমে ২২১টিতে নেমে আসে। এবার তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর লোকসানি শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৫টিতে।

অথচ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল ২২১টি। ৬ মাসে লোকসানি শাখা বেড়েছে ৪টি। সূত্র জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে রূপালী ব্যাংকের লোকসানি শাখা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রূপালী ব্যাংকের লোকসানি শাখা ছিল ৮টি। কিন্তু চলতি বছরের জুন শেষে তা ১৬টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ৬ মাসে ব্যাংকটির লোকসানি শাখা দ্বিগুণ হয়েছে। একইভাবে গত ডিসেম্বরে অগ্রণী ব্যাংকের লোকসানি শাখা ছিল ২১টি। জুন শেষে তা বেড়ে ৪৬টিতে দাঁড়িয়েছে।

জনতা ব্যাংকের ৩টি বেড়ে ৫৯টি, বেসিক ব্যাংকের ২১টি ও বিডিবিএলের লোকসানি শাখার সংখ্যা ২২টিতে অবস্থান করছে। তবে সোনালী ব্যাংকের লোকসানি শাখা কমেছে। ব্যাংকটির লোকসানি শাখা ডিসেম্বর শেষে ৯৩টি থাকলেও জুনে ৬১টিতে নেমে এসেছে। তবে বেসিক ব্যাংকের লোকসানি শাখা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ রয়েছে। কারণ এখনো ব্যাংকটির এক-তৃতীয়াংশ শাখা লোকসানে রয়েছে।
বেসিক ব্যাংকের মোট শাখা ৬৩টি। তার মধ্যে ২১টি শাখা লোকসানি। ব্যাংকটির শান্তিনগর ও গুলশান শাখায় ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। উভয় শাখা থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ বের করে নিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ।

ওই কারণে শাখা দুটি এখনো লোকসানে। তাছাড়া নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বেসিক ব্যাংকের দিলকুশা, আগ্রাবাদ, বেলকুচি, চিতলমারী, কুমিল্লা, এলেঙ্গা, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, ঝিকরগাছা, কোটালীপাড়া, মাতুয়াইল, মহিপুর, রাজশাহী, রংপুর, সৈয়দপুর, সাতক্ষীরা, সোনারপাড়া, টুঙ্গিপাড়া ও জিন্দাবাজার শাখা লোকসানে পড়েছে। সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক বেসিক ব্যাংক নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছে। কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। কারণ বছরের পর বছর ব্যাংকটি আগের অবস্থানেই পড়ে আছে। কোনো উন্নতি নেই। আর সোনালী ব্যাংকের ৬১টি শাখা লোকসানে রয়েছে।

তার মধ্যে শেরাটন কর্পোরেট শাখাও রয়েছে। যেখানে হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় লুট হয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখাসহ ব্যাপক লুটপাটের শিকার ২০টি শাখাও লোকসানে পড়েছে। তবে সোনালী ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকটির লোকসানি শাখা কমে এসেছে এবং আরো কমে আসবে। তবে ২০টি শাখা নিয়ে বেশি বিপদে রয়েছে। জনতা ব্যাংকের লোকসানি শাখা ৫৯টি। ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েকটি পার্টি সময়মতো টাকা না দেয়ায় লোকসানে পড়েছে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো।

সেটি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। আর অগ্রণী ব্যাংকের ৪৬টি শাখা লোকসানে পড়েছে। রূপালী ব্যাংকের লোকসানি শাখা ১৬টি। ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের পর্ষদের বেশির ভাগ শাখা লোকসানে পড়েছে। এখন সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তাছাড়া বিডিবিএলের ২২টি শাখা লোকসানে পড়েছে। ওসব শাখা দীর্ঘদিন লোকসান গুনছে। এদিকে লোকসানি শাখা প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম জানান, লোকসানি শাখা কিছুটা বেড়েছে। তবে দ্রুত কমে যাবে।

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১