,


মের পদত্যাগ, কে হবেন প্রধানমন্ত্রী, কারা বাছবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এক হাজার ৫৯ দিন দায়িত্ব থাকার পর ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানের পদ থেকে আজ ইস্তফা দিচ্ছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তবে দলীয় পদ ছাড়লেও নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের আগ পর্যন্ত মে থাকছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। যদিও এখনো তাঁর উত্তরসুরি খুঁজে পায়নি কনজারভেটিভ পার্টি। কিন্তু কেন চলে যাচ্ছেন মে? মের পদত্যাগ যুক্তরাজ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলবে? এমন কিছু প্রশ্নের জবাব খোঁজার চেষ্টা করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম বিবিসি। কেন পদত্যাগ করছেন থেরেসা মে? প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর ওপর অর্পিত সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটিই করতে ব্যর্থ হয়েছেন মে। ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে পারেনি তিনি।

২০১৬ সালের জুনে এক গণভোটে ব্রিটেনের নাগরিকরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেয়। ব্রেক্সিটের পক্ষে পড়ে ৫২ শতাংশ ভোট। আড়াই বছর পর ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের বিষয়ে একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে যুক্তরাজ্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে পরিকল্পনাটি জানানোও হয়।

কিন্তু কনজারভেটিভ পার্টি থেকে নির্বাচিত কয়েকজন সংসদ সদস্য পরিকল্পনাটির বিপক্ষে অবস্থান নেন। তাঁরা পরিকল্পনাটিকে ‘বাজে চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন। এখানেই শেষ নয়। পদত্যাগ করেন থেরেসা মে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীও। এমপিদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করে যান থেরেসা মে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না। তিনবার বাতিল হয়ে যায় ব্রেক্সিট চুক্তি।

এদিকে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের তারিখ পেছানো হয় ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। থেরেসা মের ওপরও চাপ বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে গত ২৪ মে ব্রেক্সিট ইস্যুতে ব্যর্থতার দায় নিয়ে আগেই পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন থেরেসা মে। ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চান কারা? যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য দৌঁড়ঝাঁপ এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। একজন দুজন নন, এ দৌঁড়ে আছেন ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেসে এগিয়ে আছেন যুক্তরাজ্যের সুপরিচিত ও বর্ণিল ব্যক্তিত্ব বরিস জনসন। তিনি ব্রিটেনের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং লন্ডনের সাবেক মেয়র।

তবে বরিস জনসন এগিয়ে থাকার মানে এই নয় যে, তিনিই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। কারণ অতীতে অনেকবার দেখা গেছে প্রাথমিকভাবে এগিয়ে থাকারা শেষ পর্যন্ত জিততে পারেননি। অবশ্য এর আগেও রক্ষণশীল টোরি দলের নেতৃত্বের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন জনসন। সেবার তাঁর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ান দলের অন্য প্রার্থী মাইকেল গোভ। মজার বিষয় হলো, সেই গোভ এবারও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে সামিল আছেন।

১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে দুজন মাত্র নারী।

পরবর্তী নেতৃত্ব বাছাই করেন কারা?

দলের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হতে হলে প্রার্থীকে দলের সংসদ সদস্যসহ সাধারণ সদস্যদেরও সমর্থন লাগে।

প্রথমে দলের মনোনয়ন পেতে হয়। এর জন্য প্রার্থীকে নিজ দলের আটজন এমপির সমর্থন-স্বাক্ষর নিতে হয়। এরপর দলীয় এমপিরা কয়েক দফা গোপন ভোটাভুটি করে দুজন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেন।

এরপর টোরি দলের নিবন্ধিত সদস্যদের ভোটের মধ্য দিয়ে শেষ হয় নির্বাচন প্রক্রিয়া।

অর্থাৎ সাড়ে ছয় কোটি জনগণের দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন কেবল এক লাখ ২৪ হাজার মানুষের ভোটে।

আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে দলের প্রধান ও ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম জানা যাবে।

কোনো সাধারণ নির্বাচন কি হবে?

নতুন প্রধানমন্ত্রী আসা মানেই সাধারণ নির্বাচন নয়।

কনজারভেটিভ পার্টিই ক্ষমতায় থাকায়, প্রধানমন্ত্রী হতে হলে নতুন করে সাধারণ নির্বাচনের প্রয়োজন হবে না।

তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়তো মনে করতে পারেন, ব্রিটেনের জনগণ তাঁকে পছন্দ করেছেন কিনা তা একটু পরখ করে দেখা যাক। তাহলে তিনি চাইলে সাধারণ নির্বাচনের ডাক দিতে পারেন।

তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী সাধারণ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিলেই কেবল হবে না। তাঁকে দুই-তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থনও পেতে হবে।

সবমিলিয়ে থেরেসা মের জায়গায় যিনিই আসবেন, তাঁর কাজটা মোটেও সহজ হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০