,


ভাঙ্গা ঘরে আতঙ্কে রাত কাটে বৃদ্ধা জামিনার

তোফায়েল হোসেন জাকির : বৃদ্ধা জামিনা বেগম। বয়স ৬৬ ছুঁইছুঁই করছে। নিজের আছে তিন শতক জমি। তবে বসবাস উপযোগি ঘর নেই। আছে ছাপরা একটি ভাঙ্গা ঘর। এই ঘরে রাতে শুয়ে আকাশের তারা ছুটাছুটি দেখেন তিনি। কখন যে ঝড়-তুফান আসে, এমন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পোহাতে হয় জামিনার।

বৃদ্ধা এই জামিনা বেগম গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া গ্রামের ছলিম উদ্দিনের স্ত্রী।

জানা যায়, স্বামী ও এক ছেলে নিয়ে জামিনা বেগমের সংসার। স্বামী ছলিম উদ্দিন বয়সের ভারে নুহ্য হয়ে পড়েছে। নানান রোগে বাসা বাঁধার কারণে কোনো ধরণের আয়-রোজগার করতে পারে না ছলিম উদ্দিন। ফলে জীবিকার তাগিদে অন্যের বাড়িতে শ্রম বিক্রি করে দিনযাপন করেন জামিনা বেগম। সারাদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সন্ধ্যায় ফিরে আসেন নিজ বাড়িতে। বাড়ি তো নয়, যেন ঝোপের মধ্যে বসবাস। চারিদিকে ঝাউ-জঙ্গলের মাঝে ভাঙ্গা একটি ছাপরা ঘরেই চরম আতঙ্কে রাত কাটে তার। কখন যে বৃষ্টি-বাতাশ আসে, এমন ভয়ে নির্ঘুম রাত পোহাতে হয় জামিনার। জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকতে সারাদিন পরিশ্রম করার পর রাতে একটু ভালভাবে ঘুমাবে, তবে সেখানেও নেই তার শান্তি। কারণ বৃষ্টি হলেই পানিতে ভরে যায় তার বিছানাপত্র। তবুও জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকার তাগিদে জরাজীর্ণ ভাঙ্গা ঘরের বিছানায় রাতভর ছটফট করে থাকতে হয় জামিনাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাগর আকন্দ বলেন, ওই ভাঙ্গা ঘরটি-তে প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছেন তারা। “জমি আছে ঘর নাই” প্রকল্প চালু করেছে সরকার। জামিনা বেগমের জন্য ওই প্রকল্পে ঘর দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।

বৃদ্ধা জামিনা বেগম বলেন, পেটের তাগিদে সারাদিন অপরের বাড়িতে পরিশ্রম শেষে ঘরে এসে আরামে ঘুমাব তাও পারিনা। কখন যে ঝড়-বাতাশে ঘরটি ভেঙ্গে পড়ে এ জন্য রাত জেগে থাকতে হয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি দুর্যোগ সহনীয় ঘর পাবার আকুতি করছি।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, জামিনা বেগমের এমন অবস্থা তা আমার জানা নেই। দেখি কিছু করা যায় কিনা।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুল ইসলাম মনির জানান, জামিনার বিষটি চেষ্টা করা হবে। একই কথা জানালেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নবীনেওয়াজ।

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০