,


‘বিরোধী পক্ষকে দমনে সরকার নির্যাতনের নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে’

উপচার ডেস্ক: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একের পর এক নির্যাতনের নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করছে বিরোধী পক্ষকে দমিয়ে দেওয়ার জন্য- এমন অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা যখন ইলিয়াস আলীর কথা মনে করি তখনই একজন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, সাহসী মানুষের ছবি ভেসে ওঠে যিনি কখনো নতি স্বীকার করেননি। তাকে তারা (সরকার) সরিয়ে দিয়েছে। এই যে ভয়ের রাজত্ব সৃষ্টি করা, ভয়ের একটা ফোবিয়া তৈরি করা।

আজ বুধবার রাতে রাজধানীর বনানীতে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এ সময় আমরা এই অবস্থার অবসান চাই উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা মনে করি, জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই ধরনের নির্যাতনকারী, নিপীড়নকারী সরকারের পতন হতে বাধ্য।’

দীর্ঘ সাত বছরে আগে ২০১২ সালে এপ্রিলের ১৭ তারিখে বনানীর বাসা থেকে বের হবার পরপরই মহাখালীর সাউথ পয়েন্ট স্কুলের সামনে থেকে ইলিয়াস আলী নিজের গাড়ি ড্রাইভারসহ নিখোঁজ হন। আজ সন্ধ্যায় বনানীতে ইলিয়াস আলীর বাসায় যান মির্জা ফখরুল। তিনি ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, বড় ছেলে আরবার ইলিয়াস ও ছোট মেয়ে সাইয়ারা নাওয়ালসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

অন্যদের মধ্যে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, নির্বাহী সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা মনি, চেয়ারপারসনের গণমাধ্যম শাখার সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ। পরে বিএনপি মহাসচিব গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

গুমের ব্যাপারটা আমাদের কাছে খুব একটা পরিচিত ব্যাপার ছিল না জানিয়ে সরকারের দমননীতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এনফোর্স ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স-এটা আমরা বইয়ে পড়তাম, ল্যাটিন আমেরিকায় এসব ঘটনা ঘটত জানতাম। বাংলাদেশে এটা শুরু হলো এই সরকার আসার পর থেকেই, সেটা ২০১১-১২ সাল থেকে শুরু হয়েছে। এরপর আমরা জানি যে, আমাদের অনেক নেতাকর্মী, বিরোধী দলের নেতাকর্মী, ট্রেড ইউনিয়নের নেতা গুম হয়ে গেছেন। এদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।’

দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির গুমের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি গুম আছেন যেমন-ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজমী, একজন ব্যারিস্টারসহ অনেকেই। ২০১৩ সালের দিকে যখন আন্দোলন চরম পর্যায়ে সেই সময়ে একসঙ্গে অনেক ছাত্র নেতা গুম হয়েছেন। এর মধ্যে শাহিনবাগের মামুন, সুমন, মুন্নাসহ অনেকে। তাদের পরিবার আশা করে হয়তো তারা ফিরে আসবে কিন্তু এখনো ফিরে আসেনি। এ রকম একটা নজিরবিহীন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে এ সরকার।’

নির্যাতন-নিপীড়ন করেই তাদেরকে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণের মধ্যে এই বোধ সৃষ্টি হয়ে গেছে যে, আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’

বিএনপি এই শীর্ষ নেতা আশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা এখনো আশা করি ইলিয়াস আলী আমাদের মাঝে, তার পরিবারের মাঝে ফিরে আসবে। তার ছোট্ট মেয়ে বাবা বলে ডাকতে পারবে। আমরা বিশ্বাস করি যারা নিখোঁজ হয়ে গেছে, গুম হয়ে গেছে তারা ফিরে আসবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১