,


বদির কুকীর্তি নিয়ে প্রকাশ্যে সরব নেতাকর্মীরা

উপচার ডেস্ক : আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা এখন সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির নাম শুনলেও বিরক্তিবোধ করছেন। অথচ কিছুদিন আগেও বদির ভয়ে আর প্রতাপে জবুথবু থাকতেন তাঁরা। ‘এমপি’ থেকে ‘সাবেক এমপি’ হওয়ার অল্পদিনের ব্যবধানে দলের এসব ত্যাগী নেতাকর্মী এখন এমপি বদির কুকীর্তি নিয়ে প্রকাশ্যেই সরব। রবিবার কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ইফতার মাহফিলে উপস্থিত তৃণমূলের নেতারা বলেছেন তাঁদের বুকের চাপা বেদনার কথা। নেতাকর্মীরা এখন বুক চাপড়ে প্রাণের সংগঠন আওয়ামী লীগকে ইয়াবা ডনদের কবল থেকে রক্ষার আকুতি জানাচ্ছে।

উখিয়ার পালং গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনাসভায় উপস্থিত তৃণমূল নেতারা সবাই এ আসনের দুইবারের এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝেরেছেন। বক্তারা বলেছেন, এমপি বদি বাস্তবে আওয়ামী লীগ করতে দলে আসেননি। তিনি টাকার জোরে দলীয় এমপি হয়ে ইয়াবার ধান্ধা করতে এসেছিলেন।

নেতারা আরো বলেন, ইয়াবা কারবারের টাকায় ২০০৮ সাল ও পরে ২০১৪ সালেও এমপি নির্বাচিত হন বদি। অবৈধ টাকার জোরেই গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তাঁর সহধর্মিণী শাহীন আক্তার এমপি নির্বাচিত হন।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সব বক্তাই এক সুরে মিলিয়ে বলেছেন, মাফিয়া চক্র এত দিন ধরে জাতির জনকের হাতে গড়া সংগঠন, দেশের স্বাধীনতার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে কুরে কুরে খেয়েছে। এসব তালিকাভুক্ত ইয়াবা ডনের কবল থেকে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগকে এবং দলের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হবে।

সভায় উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, ‘এমপি বদির নেতৃত্বে মাফিয়াচক্র বহু বছর ধরে জাতির জনকের হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করেছে। দলকে বিক্রি করেই আজ তারা হয়েছে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার মালিক। বিনিময়ে দল হারিয়েছে আদর্শের রাজনীতি এবং কর্মীরা হয়েছে হতাশ।’

তিনি বলেন, ‘এমন অবস্থা আর নয়। এবার মাফিয়াদের বের করে দিয়ে দলকে গোছানোর কাজ শুরু করতে হবে।’

সভায় তৃণমূলের ত্যাগী নেতারা সবাই কক্সবাজারে ইয়াবা সিন্ডিকেটের কারণে সৃষ্ট নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ফরিদুল আলম নামে তৃণমূলের এক নেতা ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, ‘সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি আওয়ামী লীগে লালিত হননি বিধায় আজ আমাদের এমন দুর্দিন। এ কারণে তিনি মনে-প্রাণে আওয়ামী লীগও করতে পারেননি। এমনকি বিদায় বেলায় সাবেক এমপি বদি উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগকে ভিন্ন হাতে তুলে দিয়ে গেছেন।’

ফরিদুল আলম আরো বলেন, ‘তিনি (বদি) আমাদের একজন এমপি (শাহীন আক্তার) দিয়ে গেছেন। এই এমপিকে জনগণ তো দূরের কথা, আমরাও চোখে দেখিনি। কেউ নতুন এমপির কাছে একটি সুপারিশের জন্য গেলে তিনি আগে সাবেক এমপির (বদি) কাছে গিয়ে সুপারিশ নিয়ে আসতে বলেন। তার পরই তিনি সুপারিশ দিতে পারবেন বলে জানান।’ এমপি বদি ক্ষমতা থেকে যাওয়ার সময় দলকেও বাক্সবন্দি করে নিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তৃণমূলের এই নেতা।

সুত্র : কালের কন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০