,


পায়ে জুতা-মুখে সিগারেট নিয়ে আড্ডায় নষ্ট হচ্ছে শহীদ বেদীর পবিত্রতা

রাসিক মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা

আসলাম লিটন : শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষা করুন। শহীদ মিনারের মর্যাদা সমুন্নত রাখুন, স্যান্ডেল বা জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদিতে উঠা থেকে বিরত থাকুন, শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ধুমপান বা মাদক সেবন থেকে বিরত থাকুন, শহীদ মিনারে এলাকায় যে কোন ধরণের অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকুন, শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা নিষেধ, শহীদ মিনার এলাকায় বা অভ্যন্তরে হকার বসা সম্পূর্ণ নিষেধ। তবে এগুলোর সবগুলোই ঘটে রাজশাহী মহানগরের ভূবন মোহন পার্কে শহীদ মিনার প্রঙ্গনে।

রাজশাহী মহানগরের ভূবন মোহন পার্ক শহীদ মিনার ।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে যারা আন্দোলন করে শহীদ হয়েছিলেন তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে সারাদেশে নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার। আর ১৯৫৩ সালে রাজশাহী মহানগরের ভূবন মোহন পার্কে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করে জাঁকজমকভাবে শহীদ দিবস উদযাপন করা হয়েছিল। আর আজ সেই শহীদ বেদীতে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি জুতো পরে বসে আড্ডা, সিগারেট খাওয়া,দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গল্প-গুজব, স্কুল কলেজ ফাঁকি দিয়ে আড্ডা দিলেও কেউ তাদের নিষেধ করছে না। যেন শহীদ মিনারকে দেখার কেউ নেই? গতকাল শনিবার ভুবন মোহন পার্কে অবস্থিত শহীদ মিনারের বেদীতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় এমনই চিত্র।

জানা যায়, রাজশাহী মহানগরের ভূবন মোহন পার্কের একটি ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস রয়েছে। রাজশাহী নগরীর মালোপাড়ায় অবস্থিত ভূবন মোহন পার্কটির ইতিহাস বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে জড়িত। এই পার্কে অবস্থিত শহীদ মিনারটি ১৯৫৩ সালে নির্মাণ করা হয়। এক সময় পার্কটিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নিলে আন্দোলনের কারণে তা স্থগিত করা হয়। অবিভক্ত বাংলায় আন্দোলন সংগ্রামে এই পার্কটিতে সভা সমাবেশ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো। এই পার্কে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু থেকে শুরু করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পর্যন্ত পদধুলি দিয়ে গেছেন। উত্তর অঞ্চলের মানুষের মাঝে স্বাধীনতা ও দেশপ্রমের চেতনাকে উদ্বুদ্ধ করতে তৎকালীন স্বাধীনতাকামী নেতৃবৃন্দ স্থানটিতে এসে সভা-সমাবেশ করে গেছেন।

ভাষা সৈনিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের দাবীর প্রেক্ষিতে এখানে বিগত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর সময় নামফলক সহ শহীদ মিনার তৈরী করা হয়। বর্তমান রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এর উদ্যোগে জায়গাটির সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যা প্রশংসার দাবীদার। তবে শহীদদের জন্য নির্মিত সেই বেদী আজ অবহেলীত; স্বাধীন বাংলার জনসাধারণের দারাই পদদলিত। কদর শুধু বিশেষ দিবসগুলোতেই।

এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা বলেন, শহীদ মিনারটিতে ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ১৬ ই ডিসেম্বর, ২৬ শে র্মাচ স্মৃতি সৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় শহীদদের। শ্রদ্ধা জানানোর আগে শহীদ বেদী ও স্মৃতিস্তম্ব ধুয়ে মুছে ঝকঝকে ও পরিষ্কার করা হয়। তার পর ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় শহীদ বেদী ও স্মৃতিস্তম্ব। কিন্তু দিবস চলে যাওয়ার পর কেউ আর খবর রাখে না শহীদ মিনারটির। অবহেলায় পড়ে থাকে শহীদ বেদী ও স্মৃতিস্তম্ব। ফলে ভাষা শহীদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর পবিত্র স্থান শহীদ মিনারের বেদীতে জুতো পরে বসে আড্ডা দেয়া, সিগারেট খাওয়া এগুলো বর্তমানে শহীদ মিনারকে ঘিরে নিত্য দিনের চালচিত্ত্রে পরিনত হয়েছে । এখানকার পরিবেশ রক্ষা ও সেই সাথে ভাষা শহীদদের সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর পবিত্র স্থানটির মর্যাদা রক্ষার্থে তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এ.এইচ এম কামারুজ্জামানের ছেলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খাইরুজ্জামান লিটনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উল্লেখ্য, ভুবন মোহন পার্কে অবস্থিত শহীদ মিনারটি ১৯৫৩ সালে নির্মাণ করা হয়। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ১৯৯৮ সালে শহীদ মিনারটি দুই লক্ষ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করে ঐ সালেরই ১২ই ডিসেম্বর ভাষা সৈনিক অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু সংস্কারকৃত শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন। ২০০৫ সালে সিটি কর্পোরেশন এ শহীদ মিনারে ৬৪ জন ভাষাসৈনিক এর নামফলক স্থাপন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১