,


নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রামেবিতে এডহক নিয়োগের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মাসুম হাবিবের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত প্রীতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১০ দফা এডহক নিয়োগ এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করার মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনের ৯টি পদের ৫টিতে কট্টর বিএনপি ও জামায়াত সমর্থক হিসেবে পরিচিত দুজনকে নিয়োগ দিয়েছেন ভিসি। এর মধ্যে প্রিভেনটিভ এন্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদ, ডেন্টাল অনুষদ ও নার্সিং অনুষদের ৩টি ডিন পদে জামায়াত সমর্থক এবং মেডিকেল টেকনোলজি অনুষদ এবং বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ২টি ডিন পদে বিএনপি সমর্থিত ‘ড্যাবে’র সাবেক এক নেতা নিয়োগ পেয়েছেন। ডিন নিয়োগে আওয়ামী লীগ সমর্থক স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এবং বিএমএর নেতাদের কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ২০১৭ সালের ৪ জুলাই ‘উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার’ শর্তে রামেবির জন্য ৫১টি পদে জনবল নিয়োগের অনুমোদন করে। এ ছাড়া ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়পত্রে এডহক ও মাস্টার রোলে নিয়োগ বন্ধের নির্দেশনা দেয়। অন্যদিকে রামেবি আইনের ১৩(১০) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, ‘ভাইস চ্যান্সেলর সিন্ডিকেটের পূর্বানুমোদনক্রমে অনুমোদিত শূন্যপদে সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে অনধিক ৬ মাসের কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে উক্তরূপ নিয়োগের মেয়াদ অনধিক ৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারবেন।’ কিন্তু রামেবির আইন (সিন্ডিকেটের পূর্বানুমোদন) এবং ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এডহক নিয়োগ অব্যাহত রেখেছেন ভিসি। গত প্রায় এক বছরে ১০ দফায় অন্তত ৩০ জনকে এডহক নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। কয়েকজনকে প্রথম এডহক থেকে দ্বিতীয় এডহকে পদোন্নতিও দিয়েছেন। ভিসি যখন যাকে খুশি এডহকে নিয়োগ দেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ৮ জনকে এডহকে নিয়োগ দেন ভিসি। এদের মধ্যে প্রেষণে থাকা রামেকের দশম গ্রেডের কর্মকর্তা একরামুল হককে নিয়ম লঙ্ঘন করে সপ্তম গ্রেডের সহকারী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দিয়ে পঞ্চম গ্রেডের ডেপুটি রেজিস্ট্রারের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয় দফায় ২০১৮ সালের ১ মার্চ রামেকের এক উচ্চমান সহকারীকে একই কায়দায় সেকশন অফিসার পদে এডহক নিয়োগ দেন। এরপর একই বছর ২২ এপ্রিল ৩ জন, ৫ মে ১ জন, ২৭ জুন প্রথম এডহকের ৪ জনকে পদোন্নতিসহ নতুন ৩ জন এবং ১ জুলাই ৩ জনকে এডহক নিয়োগ দেয়া হয়।
এরপর ২০১৮ সালের ৮ জুলাই ৩৪টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পরেও ২১ জুলাই আরো ৩ জনকে এডহক নিয়োগ দেয়া হয়। সিলেকশন বোর্ড এডহকের ১৭ জনসহ ২৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করে, যা ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত তৃতীয় সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন করা হয়। ২০ ডিসেম্বর এডহকের ১৫ জনসহ ২৪ জনকে স্থায়ী নিয়োগ দেয়া হলেও সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশ ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে সেকশন অফিসার পদে দুই মেয়াদে এডহক নিয়োগপ্রাপ্ত একজনকে স্থায়ী নিয়োগ দেননি ভিসি। এ নিয়ে বঞ্চিত ওই কর্মকর্তা সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ স্বাস্থ্য সচিব, রামেবির ভিসি ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে রুলনিশি জারি এবং রিট আবেদনকারীর সেকশন অফিসার পদে চাকরি অব্যাহত রাখার বিষয়ে ৬ মাসের স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়েছেন বলে জানা যায়।

এদিকে স্থায়ী নিয়োগের এক মাসের মাথায় চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি ৩ জন, ২৩ ফেব্রুয়ারি ৫ জন এবং সর্বশেষ গত মার্চে দশম দফায় ১ জনকে এডহক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে আগে সেকশন অফিসার পদে দুবার এডহক নিয়োগপ্রাপ্ত এক শিক্ষার্থীকে তৃতীয় বারের মতো নিম্নপদে এডহক নিয়োগ দেয়া হয়। এ ৯ জনের এডহক নিয়োগে এখনো সিন্ডিকেটের অনুমোদন নেয়া হয়নি। অন্যদিকে প্রেষণে আনা ৪ জন ও চুক্তিভিত্তিক দুজনসহ এডহকে নিয়োগকৃত দুজনকে নানা কৌশলে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগও উঠেছে। ভিসির এ ধরনের কর্মকা-কে ‘নিয়োগ নিয়ে খেলা’ বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে রামেবিতে নিয়োগে দুর্নীতি ও আর্থিক লেনদেনসহ বেশ কিছু অভিযোগ জানিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে সিন্ডিকেট সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। চিঠিতে ভিসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেয়ার অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া যারা টাকা দেননি তারা স্থায়ী নিয়োগ পাননি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

জানতে চাইলে ডিন নিয়োগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মাসুম হাবিব বলেন, মেডিকেল টেকনোলজি অনুষদ এবং বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিনকে শিগগিরই বাদ দেয়া হবে। আর অন্যজনকে একটি পদে রেখে যে কোনো দুটি ডিনের পদ থেকে বাদ দেয়া হবে। এ ছাড়া নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে সিন্ডিকেট সদস্য ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগের চিঠির সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ওই চিঠি কারা পাঠিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছিটকে পড়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১