,


নওহাটায় পুকুরের প্রটেকশন ওয়ালের নির্মাণ কাজে অনিয়ম

পবা প্রতিনিধি : রাজশাহীর পবার নওহাটা পৌরসভায় একটি পুকুরের প্রটেকশন ওয়ালে চলছে পুকুরচুরি। আর কাজে রসদ যোগাচ্ছে নওহাটা পৌর উপ-সহকারি প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলে জানা গেছে।

নওহাটা পৌরসভার পালোপাড়া গ্রামে চলছে সংযোগ রাস্তার পাশে একটি পুকুরের প্রটেকশন ওয়ালের কাজ। নিম্নমালের ইট, খোয়া তো আছেই। এছাড়াও দরপত্রে ওয়ালের দৈর্ঘ্য ৬৫ মিটার এবং উচ্চতা সাড়ে ফুট হওয়ার কথা থাকলেও তা করছেন না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শাপলা ট্রেডার্স। দৈর্ঘে ৬৫ মিটার করার কথা থাকলেও হয়েছে ৬০ মিটার এবং উচ্চতা সাড়ে ১০ ফুটের থাকলেও হয়েছে সাড়ে আট ফুট।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নওহাটা পৌর মেয়র আলহাজ্ব শেখ মোহাম্মদ মকবুল হোসেন আটকে জেল হাজতে আছেন। পৌর সহকারি প্রকৌশলী চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন। বর্তমানে কাজটি দেখভালের কেউ নেই। এই সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শাপলা ট্রেডার্স’র গিয়াস উদ্দিন ইট, খোয়া, ওয়ালের দৈর্ঘ্য ও উচ্চতা কম করে খুবই তরিঘড়ি করে এই নির্মাণ কাজ করছেন। আর দেখভাল করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে পৌর উপসহকারি প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

ওই কাজ দেখভাল করছেন রাজমিস্ত্রী শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান ঠিকাদার যেভাবে কাজ করতে বলছেন সেভাবেই কাজ হচ্ছে। ইট ও খোয়া নিম্নমানের কিনা এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন আমাকে এরমাঝে জড়াবেন না’। তবে তিনি এই নির্মাণ কাজের দৈর্ঘ্য ও উচ্চতা ঠিক নেই, তা জানান। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু প্রকল্পের কাজগুলো এর চেয়েও খারাপ হচ্ছে’।

পৌর উপসহকারি প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, নির্মাণ কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে। তবে সবসময়তো যাওয়া হয় না। এই ফাঁকে কম-বেশী হলে তদন্ত করে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, জলবায়ু ইস্যুতে বিশ্বের যে কয়েকটি দেশ রয়েছে চরম ঝুঁকিতে, তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। অথচ সরকার, দাতা দেশ ও সংস্থা র্কর্তৃক বরাদ্দ তহবিল নিয়ে বছরের পর বছর ধরে এ খাতে চলছে প্রায় অবাধ লুটপাট, তহবিল তছরুপ, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি সর্বোপরি সমন্বয়হীনতা। জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সরকার গত আট বছরে বরাদ্দ দিয়েছে আট হাজার ২০০ কোটি টাকা। বাস্তবে সুফল মিলেছে সামান্যই। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটি) থেকে বিভিন্ন জেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ৪৫০টির মতো প্রকল্প।

সরেজমিন অনুসন্ধানে অধিকাংশের হদিস পাওয়া যায়নি। জলবায়ু তহবিলের টাকায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পে সাইনবোর্ড টাঙানো বাধ্যতামূলক হলেও প্রায় কোথাও এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর বাইরে জলবায়ু তহবিলের টাকা ব্যবহার নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী বিবেচনায় অনুমোদন, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকির এলাকায় প্রকল্প বরাদ্দ, আদৌ কোন নজরদারি না থাকা, অনুমোদিত প্রকল্প পরিবর্তন, নিম্নমানের কাজ, অযথা মেয়াদ বাড়ানো ইত্যাদি তো আছেই। বিসিসিটির নিজস্ব লোকবল মাত্র ৭০ জন। এর মধ্যে শূন্যপদের সংখ্যা ১২টি। সীমিত জনবল নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সর্বত্র নজরদারি সম্ভব নয়। এর বাইরেও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) কার্যালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যয়ন বিভাগ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত প্রকল্পগুলোর নিরীক্ষা করার কথা থাকলেও বাস্তবে এর অগ্রগতি নেই বললেই চলে। প্রকল্প এলাকার জনপ্রতিনিধি ও মানুষজনের মতে, নিয়মিত নজরদারি ও মনিটরিংয়ের কথা তাদের জানা নেই। ফলে যথেচ্ছ লুটপাট চলছেই।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০