,


ট্রেনের টিকিট না থাকায় কিশোরীর মোবাইল কেড়ে নেয়া হলো

নিজস্ব প্রতিনিধি : ট্রেনে বিনা টিকিটে ভ্রমণকারীদের সাথে রেলওয়ের চেকিং স্টাফদের প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হতে হয়। অনেকে রেলকে ফাঁকি দিতে নানান রকম অজুহাত দাঁড় করান। নানা বয়সের মানুষ এই ধরনের ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকেন। দেশের প্রায় সব রেলরুটেই এই ধরনের টিকিট বিহীন যাত্রীদের মুখোমুখি হতে হয় রেলকর্মীদের। ঘটে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা। এত সবের পরও অন্তত দশ শতাংশ যাত্রী বিনা টিকিটে কোন না কোন ভাবে পার পেয়ে যান। এর মধ্যে তারা রেল কর্মীদের হাত করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়ায় ভ্রমণের সুযোগ নেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই ধরনের ঘটনায় চেকিংকর্মীরা কি করবেন? নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা সহ ভাড়া আদায় অথবা রেলের আইন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে বিশেষ চেকিং এর সময়ে কিছুকিছু বিষয় মানবিক কারন হয়ে দাঁড়ায়। ধরুন ট্রেনে উঠার আগেই একজন যাত্রীর পকেট মারার কারনে অথবা ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে কিংবা সময়ের অভাবে টিকিট কাটতে পারেননি এবং অজ্ঞান পার্টির হানায় সব খেয়ানো কোন যাত্রী অথবা ভাসমান ও প্রতিবন্ধী কোন যাত্রী। এসব ক্ষেত্রেও কি আইনের পুরোপুরি প্রয়োগ ঘটবে নাকি মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে? এ ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উচিৎ নীতিমালা তৈরি করা। নতুবা অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

এধরনের একটি ঘটনা গতকাল শুক্রবার রাজশাহী রেলস্টেশনে সিল্ক সিটি ট্রেনে ঘটেছে। ১৩ বছর বয়সের অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রী রাজশাহী থেকে টাঙ্গাইল যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রেনের ” ছ ” বগিতে উঠে। কিছুক্ষণ পর বিশেষ চেকিং এ আসেন উর্ধতন এক রেল কর্মকর্তা ও তার দল। ছাত্রীর টিকিট চাইলে সে টিকিট দেখাতে ব্যর্থ হয়। এবং তার কাছে টিকিট কাটার মতো টাকা নেই বলে জানায়,এ সময় উক্ত কর্মকর্তা মেয়েটির মোবাইলটি কেড়ে নিয়ে অন্য বগিতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক শাহিনুর রহমান সোনা মোবাইল টি কেড়ে নেয়ার কারন জানতে চাইলে উক্ত কর্মকর্তা ঐ সাংবাদিককে ভাড়া পরিশোধের জন্য তাগিদ দেন। তখন সাংবাদিক ঐ কিশোরী যাত্রীর পক্ষে ১৮০ টাকা ভাড়া পরিশোধের পর মোবাইলটি ফেরত দেন। এখন প্রশ্ন যদি সাংবাদিক সোনা ঐ কিশোরীর জন্য ভাড়া পরিশোধ না করতেন তাহলে কি মোবাইলটা ফেরত পাওয়া যেতনা? নাকি বিনা টিকিটের জন্য অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে পুলিশে দেয়া হতো? এখন রেল কর্তাদের কাছে প্রশ্নঃ যখন টিকিটের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট পাওয়া যায় না অথচ কালোবাজারীদের কাছে টিকিট পাওয়া যায় তখন কোথায় থাকে আইন? যখন ট্রেন থামিয়ে জনগনের টাকার জ্বালানী তেল ইঞ্জিন ও পাওয়ার কার থেকে পাচার হয় তখন কোথায় থাকে আইন? যখন গার্ড ব্রেক, পাওয়ার কার ও অপারেটরের কক্ষে রেল কর্মকর্তারা ভ্রমণ করেন তখন কোথায় থাকে আইন? যখন স্টান্ডিং টিকিট দেয়া হয় তখন কোথায় থাকে আইন? আর ছাদে ভ্রমণ, ঝুলে থাকা,পকেট মার,ঢিল মারার সময় কোথায় থাকে আপনাদের আইন?

একজন সাংবাদিক হয়ে অন্য মানুষের ভাড়া পরিশোধের জন্য৷ টাকা খরচ করলেন,অথচ ঐ কর্মকর্তাটি মোবাইল নিয়ে চম্পট দিচ্ছিলেন।এটা কি নৈতিকতা বিরোধী নয়?মোবাইলটি কেড়ে নেয়ার সময় ঐ কর্মকর্তা নিজের সন্তানের কথা একবার ভাবলেননা কেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০